অমৃতসর: দশেরার অনুষ্ঠান চলাকালীন অমৃতসরে অদূরে ঘটে গিয়েছে বড় অঘটন। রাবণ বধ দেখতে গিয়ে রেলের ধাক্কায় প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের। জখম হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

এত বড় দুর্ঘটনার জন্য চৌরা বাজারে দশেরা অনুষ্ঠানের আয়োজক কংগ্রেস নেতাদের কাঠগড়ায় তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাঠের পাশে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় দর্শকদের জন্য সাবধানতা বা সচেতনতার ব্যবস্থা ছিল না বলে দাবি করেছেন অনেকেই।

অমৃতসরের জোড়া ফটকের কাছে এদিন শুরু হয়েছিল দশেরার উৎসব। যে অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাবের মন্ত্রী নভোজিত সিং সিধুর স্ত্রী নভোজিত কৌর সিধু। দুর্ঘটনার সময়েও তিনি মঞ্চে বক্তৃতা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনার পরেই তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলেও উঠেছে অভিযোগ।

বহু মানুষ রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে দেখছিলে রাবণ বধের সেই অনুষ্ঠান। সেই সময় চলে আসে ট্রেন। আর তাতেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বহু মানুষ। অনেকেই ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ধাক্কা লাগে রেল লাইনের আশেপাশে থাকা লোকেদের গায়েও। প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরে অনেকের দেহ ছিটকে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অমৃতসর এবং মানয়ালের মাঝে ২৭ নম্বর গেটের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে রেলের তরফে। দশেরা অনুষ্ঠান চলাকালীন ভিড়ে ঠাসা মানুষদের উপরে দিয়ে একটি ডিএমইউ ট্রেন চলে যায়। ট্রেনের নম্বর হচ্ছে ৭৪৯৪৩। এমনই জানিয়েছেন নর্দান রেলের সিপিআরও।

এই বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আয়োজকদেরকেই দায়ী করেছেন। যার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে রেল লাইনের পাশে এত বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও রেল কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হয়নি। একই দাবি করেছেন রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী লোহানি। এই একই সুর শোনা গিয়েছে রেল প্রতিমন্ত্রী মনোজ সিনহার গলাতেও।

স্থানীয়দের দাবি, ট্রেন আসার সময় সম্পর্কে দর্শকদের আগাম সতর্কতা জারি করা উচিত ছিল দশেরার আয়োজকদের। অথবা ট্রেন আসার সময়ে রেল লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার বিষয়টিও মঞ্চ থেকে দর্শকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা যেতো। কিন্তু সেই সব কিছুই করেনি দশেরার আয়োজকেরা।