তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কাজের মানুষ, কাছের মানুষ হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডলের। প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সমস্ত স্তরের মানুষকে আপন করে নেওয়ার অসীম ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। আর তাঁর ডাকেই সাড়া দিয়ে, তাঁরই নেতৃত্বে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ক্লাব, শহরের পুজো কমিটি ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কারের কাজে হাত লাগালেন।

হাসপাতাল চত্বরে ছড়িয়ে থাকা নোংরা-আবর্জনা, নালা পরিষ্কারের পাশাপাশি যত্র তত্র গজিয়ে ওঠা ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করলেন তারা। আর উপস্থিত সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে এই কাজে হাত লাগালেন মহকুমা শাসক মানস মণ্ডল স্বয়ং।

মহকুমা শাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই মল্লরাজাদের রাজধানী, প্রাচীন পুর শহর, মন্দির নগরীকে বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্য রক্ষায় নানান উদ্যোগ নিয়েছেন মানস মণ্ডল। তাঁরই উদ্যোগে শহরের জোড় শ্রেণির মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতি শনিবার পোড়া মাটির হাট, নিজের মতো করে মোবাইল ছাড়া কিছুটা সময় প্রকৃতির কোলে কাটাতে ‘হ্যামক’, লাল বাঁধের জলে নৌকা বিহার, এখানকার ঐতিহ্য মণ্ডিত বালুচরি বিক্রির জন্য হাট সহ বেশ কিছু জনমুখী পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি রক্ষায় এর আগে কোন সরকারি আধিকারিক এভাবে এগিয়ে আসেননি বলেই অনেকে জানিয়েছেন।

এদিন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কারের কাজে অংশ নেওয়া মানুষও খুশি মহকুমা প্রশাসনের অভিনব এই ভাবনায়। দ্বারিকা থেকে এই কাজে অংশ নিতে আসা একটি ক্লাবের সদস্য শেখ নজরুল বলেন, মহকুমা শাসকের ডাকে এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে এইরকম একটি কাজে অংশ নিতে পেরে। আসন্ন বর্ষার মরশুমের আগে ধারাবাহিকভাবে সর্বত্র এভাবে ঝোপ-ঝাড়, নোংরা, আবর্জনা পরিষ্কার করলে মশা বাহিত রোগ থেকে অনেকটাই রেহাই মিলবে বলে তিনি মনে করেন।

এই ভাবনা যার মস্তিষ্ক প্রসূত সেই মহকুমা শাসক মানস মণ্ডল বলেন, হঠাৎ করেই নয়, ভাবনাটা ছিলই। বর্ষার মরশুমে মশা, মাছির উৎপাত ঠেকাতেই প্রথম পর্যায়ে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল। একা প্রশাসনের পক্ষে সব কাজ কখনওই করে ওঠা সম্ভব নয়। গণ উদ্যোগ জরুরি। তাই আমরা সব মানুষের কাছে এই কাজে অংশগ্রহণের আবেদন রেখেছিলাম। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির কাছে নিজের নিজের এলাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল।

এই মুহূর্তে বহু চর্চিত পার্থেনিয়াম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের এনে তাদের নিরাপদ দূরত্বে রেখে এই গাছ চেনানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই ভয়ানক বিপদ থেকে রক্ষা পেতে ছোটো ছোটো শিশুদের পার্থেনিয়াম গাছটিকে চিনে রাখা জরুরী। আগামী দিনে সম্পূর্ণ বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকাকে পার্থেনিয়াম মুক্ত এলাকা হিসেবে তৈরির করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।