শংকর দাস, বালুরঘাট: পুরসভার কাজ হলো নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করা। ও সেই সঙ্গে নাগরিকদের চেতনার উন্মেষ ঘটানোও অন্যতম কাজ।পুরসভার এই দায়িত্বের বিষয়টি শুধু কথারই কথা নয়। তা রীতিমতো সংবিধানের পুরসভা আইন নামে উল্লেখিতও রয়েছে।

কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে তার উলোট পুরাণ দেখছেন নাগরিকরা। বাসিন্দাদের সচেতনতা করার দায়িত্ব পুরসভার থাকলেও। পুরসভাকেই উল্টে সচেতন করছেন কিছু মানুষ। রবিবার ছুটির দিনে এমন ঘটনারই সাক্ষী হয়ে রইলেন বালুরঘাটের ব্যস্ততম রাস্তার পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহনের চালক ও আরোহীরা।

বালুরঘাট পুরসভার অন্তর্গত সব চেয়ে ব্যস্ততম রাস্তা নেলসন ম্যান্ডেলা সরণি। এই রাস্তার পাশেই জেলা আদালত স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাইস্কুল মার্কেট ও আরেক দিকে বাসস্ট্যান্ড। এমনকি কলেজ থানা ও জেলা প্রশাসনিক ভবনে অল্প সময়ে যাতায়াতেও এই রাস্তা বেছে নেওয়া হয়। কাছাড়ি মোড়ের নিকট জলপ্রকল্পের কাজে প্রায় এক বছর ধরে রাস্তায় বড়সড় গর্ত হয়ে রয়েছে।

গর্তটি বুজিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি একাধিকবার তোলা হলেও পুরসভার তরফে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বিষয়টি বিগত বোর্ডের চেয়ারম্যান কাউন্সিলরদের নজরে আনা হলেও আজও সেটি একই অবস্থায়। ঠিক মোড়ের মুখে সেই গর্তের কারণে প্রতিদিনই পথ দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। গর্তের জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার্স কর্মীদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অবশেষে পুর-কর্তৃপক্ষ তথা দায়িত্বে থাকা কর্মী আধিকারিকদের লজ্জা বোধ জাগ্রত করতে নিজেরাই কোঁদাল হাতে রাস্তায় নামলেন শহরের বাসিন্দারা৷ এদিন বালুরঘাটের বিশিষ্ট সমাজকর্মী জিষ্ণু নিয়োগী, রাজা দাস, আশিস চ্যাটার্জী, পীযুষ কান্তি ও কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার্স নিজেরাই মাটি কেটে সেই গর্তটি ভরাট করে যাতায়াতের পথ সুগম করলেন।

এদিন সমাজকর্মী তথা নাট্যব্যক্তিত্ব জিষ্ণু নিয়োগী জানিয়েছেন যে ব্যস্ততম এই রাস্তার ঠিক মুখের এই গর্তটি বহুদিনের। শুধু কাছাড়ি মোড়েই নয়। জল প্রকল্পরের পাইপ বসানোর কাজের এরকম বহু রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। বহু মানুষ সেই গর্তের কারণে জখম হয়েছেন। হাত পাও ভেঙেছে অনেকের। কিন্তু তবুও সেই গর্তগুলি পুরসভার কারও নজরে পড়ছে না। তাই নিজেরাই এভাবে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এর একটাই উদ্দেশ্য তবুও যদি পরিষেবা প্রদানে সচেতন হয় পুরসভা কর্তৃপক্ষ।

রবিবার ছুটির এদিন পুর-প্রশাসকের তরফে কারও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাজেন শীল জানিয়েছেন বিগত বোর্ডের মেয়াদ শেষের আগে নেলসন ম্যান্ডেলা সহ বেশ কয়েকটি রাস্তা সংস্কার ও তৈরির টেন্ডার তাঁরা করিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও কেন রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হলো না তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখার পাশাপাশি বিপজ্জনক এই গর্ত গুলি বন্ধের ব্যাপারে পুর-প্রশাসকের সাথে কথা বলবেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও