স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: মাত্র দুমাস আগে শিলান্যাস হয়েছিল জলপাইগুড়ির করলা নদীর উপর দোলনা সেতুর৷ শুরু হয় সেতু তৈরির কাজ৷ কিন্তু কাজের মধ্যে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেতু তৈরি করার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন জলপাইগুড়ি শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা৷

চলতি বছরের মার্চ মাসে জলপাইগুড়ি শহরের সমাজপাড়া ও হাকিমপাড়ার মধ্যে সংযোগকারী পুরনো দোলনা সেতুটি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের হাত ধরে শিলান্যাস হয়৷ তারপরই শুরু হয় ভেঙে নতুন করে সেতু তৈরির কাজ৷ করলা নদীর উপর এই সেতু গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয় কাউন্সিলর কাবেরী চক্রবর্তী বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে হ্যামার ব্যবহার না করার ফলে এলাকার অনেক বাড়িতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সেতু নির্মাণের দায়িত্বে থাকা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তারা। অভিযোগ জানানো হয়েছে এসজেডিএ কর্তৃপক্ষের কাছেও। সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় মানুষদের যে ক্ষতি করা হচ্ছে তার দায় উপরোক্ত সংস্থাকে নিতে হবে বলে দাবি করা হয়।

জলপাইগুড়ির করলা ব্রিজ দোলনা সেতু নামেই পরিচিত৷ এই ব্রিজে ফাটল দেখা গিয়েছিল৷ এরপরই সার্কিট হাউসে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর, পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের বৈঠক করে৷ সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কালি পুজোর পর করলা ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হবে৷

সেতুর এক পাশে রয়েছে হাসপাতাল, টাউন ক্লাব সহ অন্যান্য সরকারি দফতর। আরেক পাশে সুনীতি বালা বালিকা বিদ্যালয়, সুন্ডেট হেলথ হোম সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলি। তাই এই সেতুর গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর থেকে সেতু তৈরি করতে প্রায় দু কোটি টাকা ব্যয় হবে।

৫৪.৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য ৯ কোটি ৩৯ লক্ষ ২ হাজার ১৮৫ টাকা খরচ করা হবে। সেতুর নির্মাণ কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে এক ফরাসি সংস্থাকে। রাজ্যের মধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এই মডিউলার সেতু নির্মাণ করা হবে।

জলপাইগুড়ির সার্বিক উন্নয়নের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর কাজ শুরু করেছে। জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাব, জলপাইগুড়ির বালা পাড়ায় পাইকারি মাছ বাজার, ট্রাক টার্মিনাস, দিনবাজার সহ শহরকে আলোয় সাজিয়ে তুলতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর কাজ করছে।