স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: চোখের সামনের পদ্মা৷ আর তা পেরলেই বাংলাদেশ। যে কোনও মুহূর্তে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত দিয়ে অনায়াসে এ দেশের মাটিতে ঢুকে পড়তে পারে অনুপ্রবেশকারীর দল৷ এমনকী, মৎস্যজীবীর বেশে কার্যসিদ্ধি করার চেষ্টা করতে পারে তারা৷

তাই আগাম কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বিএসএফ৷ সেই কারণেই মুর্শিদাবাদে তারা পদ্মায় মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে৷ কিন্তু বিএসএফের এই সিদ্ধান্তে খুশি নন মৎস্যজীবীরা৷জট খুলতে তাই স্থানীয় বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বিএসএফের সঙ্গে সোমবার একটি বৈঠকও হয়৷ সেখানেই মৎস্যজীবীদের বিশেষ শংসাপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ আর এই শংসাপত্র দেওয়ার কাজ করবে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানা এলাকার বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত৷

বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বেড়েছিল৷তাই মৎস্যজীবীদের ভিড়ে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা মিশে যেতে না পারে৷তাই মৎস্যজীবীদের পদ্মায় নামতে নিষেধ করা হয়৷কিন্তু বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বহু মানুষ মাছ ধরেই জীবীকা নির্বাহ করেন৷ফলে তাঁরা ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন৷ তাই স্থানীয়দের মধ্যে বিএসএফের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল৷ সেই কারণেই বিশেষ শংসাপত্রের ব্যবস্থা করা হল বলে বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে৷ পরিচয়পত্রের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের ওই শংসাপত্র থাকলেই পদ্মায় মাছ ধরতে দেওয়া হবে বলেও বিএসএফের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে৷

স্থানীয় বিডিও মহম্মদ সামসুজ্জামান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় নাগরিক জীবনের অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়৷ সেই বেড়াজালে সংকটে পড়েছিলেন মৎস্যজীবীরা৷আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বের হয়েছে৷এখন থেকে মৎস্যজীবীদের পদ্মায় মাছ ধরতে আর বাধা থাকার কথা নয়৷বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান যদুরাম ঘোষ বলেন, এখন আমরা মৎস্যজীবীদের শংসাপত্র তৈরিতে ব্যস্ত।ওই কার্ড হাতে পেলেই তাঁরা পদ্মায় গিয়ে মাছ ধরতে পারবেন। এদিকে প্রশাসনের উদ্যোগে খুশি ওই এলাকার মৎস্যজীবীরা৷