ঢাকা ও কক্সবাজার: ভোট বাজারে রামদা আতঙ্ক তাড়া করছে বিরোধীদের৷ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সব বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের অভিযোগ আসতে তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট রাম দা নিয়ে হামলার প্রস্তুতি তুঙ্গে৷ সেই সঙ্গে ছড়াচ্ছে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র৷ বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগের তিন শাসকের দিকেই৷ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে৷ নির্বাচন শান্তিতে হওয়ার জন্য ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আহ্বান জানাল৷

প্রকাশ্যে রামদা, ধারালো অস্ত্র, কাটা বন্দুক নিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে৷ সৈকত শহর কক্সবাজারে ঘটেছে এমন ঘটনা৷ এমনই দাবি ঢাকার কিছু টিভি চ্যানেলের৷ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সেই দৃশ্য৷ তাতে দেখা গিয়েছে বন্দুক নিয়ে তেড়ে যাচ্ছে কয়েকজন৷ আর জনগণ ভয়ে পালাচ্ছেন৷ ঘটনাস্থল কক্সবাজার-১ আসন৷ এতে তীব্র আতঙ্কিত বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ। তিনি কার্যত গৃহবন্দি৷ প্রচারে বের হলে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা করে বার্তা দিয়েছেন৷ যদিও তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ৷

অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব তথা দলের অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা রামদা নিয়ে প্রকাশ্যেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভয় দেখাচ্ছে৷ মির্জা ফখরুলের আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে আমার স্ত্রী ও কন্যা৷ তিনি বলেন, আজকে এটা প্রমাণ হয়ে গেছে, যেটা আমরা বরাবরই বলে আসছি যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে যে রাষ্ট্রযন্ত্রের পুরোপুরি প্রশ্রয়ে কাজগুলো হচ্ছে।

তবে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যজোটের প্রধান মুখ ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই ভোট নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে৷ তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান বিরোধীরা৷ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, প্রচারের শেষ দিনেও ছড়াচ্ছে বিক্ষিপ্ত হিংসা৷ একাধিক কেন্দ্রে বিরোধীদের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ৷ সেনা বাহিনীকে নামিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটদানের কথা বললেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই থাকছে প্রশ্ন৷ যদিও আওয়ামী লীগ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে৷ খুলনায় বিভিন্ন কেন্দ্রে বিরোধীদের ইলেকশন এজেন্ট ধরপাকড়ের কাজ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করছে৷

উত্তরে পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণে বাগেরহাট, পূর্বের রাজশাহী থেকে পশ্চিমে সিলেট-বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ৩০০টি আসনের ভোট গ্রহণ ঘিরে ছড়াতে থাকা অশান্তিতে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল৷ গত দশম জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ এনে ভোট বয়কট করেছিল বিএনপি৷ তারপর তাদের ও জামাত ইসলামির যৌথ নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন৷ সেই বিক্ষোভ তীব্র হিংসাত্মক আকার নেয়৷ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়৷ বহু বাস-গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ আর প্রায় একতরফা নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখেন শেখ হাসিনা৷

এবার একদশতম নির্বাচনে বিভিন্ন সমীক্ষা রিপোর্টে হাসিনার জয়কেই তুলে ধরা হয়েছে৷ কিন্তু এবার বিএনপি ও কিছু সংগঠনের ঐক্য হওয়ায় নির্বাচন পেয়েছে অন্য মাত্রা৷ এই জোটের প্রধান মুখ বর্ষীয়ান ড. কামাল৷ তিনি গণফোরাম নামে দলের প্রধান৷ তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যজোট গড়েই বিএনপি-জামাত ইসলামি ও কিছু সহযোগী সংগঠন নেমেছে নির্বাচনে৷