নয়াদিল্লি:  ২১ দিনের লকডাউন। বন্ধ সমস্ত অফিস থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য। যার ফলে স্তব্ধ দেশের অর্থনীতিও। বণিকসভার আশঙ্কা, করোনার কারণে দেশের অর্থনীতি তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। বহু মানুষের চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা। যদিও কারোর চাকরি যাবে বলে আশ্বাস মোদী সরকারের। এমনকি কেউ অনাহারে মরবে না বলেও আশ্বাস মোদী সরকারের। আর সেজন্যে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

ঘোষণা করা হিয়েছে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ। প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যে ভাতা। বিনামূল্যে চাল-ডাল, জন ধন অ্যাকাউন্ট থাকলে মিলবে ৫০০ টাকাও। এছাড়াও একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর। তবে করোনার গ্রাসে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। আর এই শিল্পকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে মোদী সরকার। আর সেই কারণে এই শিল্প চালাতে লোন নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘মহিলা পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ক্ষেত্রে বন্ধক ছাড়াই ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হল। এর ফলে, দেশের ৬৩ লাখ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী উপকৃত হবে। সুবিধা পাবে ৬.৮৫ কোটি পরিবার।’ নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, বন্ধক ছাড়া ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির হাতে অর্থ আসবে। এর ফলে সংস্থা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করে তিন মাসের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি ঋণে। রিজার্ভ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক (গ্রামীণ ব্যাংক, এইচবি সহ) কো অপারেটিভ ব্যাংক, সর্বভারতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং এনবিএফসি ( হাউসিং ফিনান্স কোম্পানি এবং মাইক্রো ফিনান্স সংস্থাসহ) কে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে ২০২০ সালের১ মার্চ থেকে বকেয়া বিভিন্ন ধরনের ঋণের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তিতে আগামী তিন মাসের মোরাটোরিয়াম। এর ফলে ঋণের টাকা শোধ করার ক্ষেত্রে নির্দেশিত সময়কে আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করে ‘রি-সিডিউল’ করা হবে। ‌

আশা করা হচ্ছে সমস্ত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশ মতো ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে মোরাটরিয়াম-এর ব্যবস্থা করবে। এই মোরাটোরিয়াম এর ফলে ব্যক্তিগত বিভিন্ন ধরনের ঋণের মাসিক কিস্তি পেমেন্ট করার জন্য ব্যাংক বা সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠান টাকা কাটবে না আগামী তিন মাস। এই মোরাটোরিয়ামের সময়কাল অতিক্রান্ত হলে তারপরেই আবার ওই দিনের জন্য ইএমআই বাবদ টাকা কাটা শুরু হবে।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, এই মোরাটোরিয়াম বা স্থগিতের ব্যবস্থা করা হলো বিশেষত সেইসব ঋণগ্রহীতার কথা মাথায় রেখে যারা করোনো ভাইরাস মহামারী কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।