কলকাতা: আমেদাবাদের শাহপুর হিন্দি স্কুল থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে লালকৃষ্ণ আদবানি৷ যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমকে বলে গেলেন – ‘‘জিত হামারি হোগি ৷’’গান্ধীনগর লোকসভা কেন্দ্র তাকে ৬টার সংসদে পাঠিয়েছে৷ দীর্ঘ ৩০ বছর এই কেন্দ্রের ভোটাররা তাঁর মুখ দেখেই ‘পদ্মচিহ্নে’আস্থা রেখেছেন৷ গান্ধীনগর কেন্দ্রে লোকসভা নির্বাচন হয়েছে অথচ আদবানি প্রার্থী নন – এই ঘটনা ১৯৯১ সালের পর মাত্র দুই বার ঘটেছে৷ ১৯৯৬ সালে ওই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অটল বিহারি বাজপেয়ি৷ ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন অটল৷ একমাস পরেই আবার ভোট হয়৷ ওই ভোটে গান্ধীনগরের প্রার্থী ছিলেন বিজয়ভাই প্যাটেল৷

আদবানি যে নির্বাচনে লড়াই করবেন না তা বিজেপির দলীয় সিদ্ধান্তে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল৷ দল সিদ্ধান্ত নেয় ৭৫ বছরের বেশি বয়স্ক নেতাদের প্রার্থী হতে দেবে না৷ গান্ধীনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ গান্ধীনগর থেকে জীবনে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছেন অমিত৷ এর আগে গান্ধীনগর থেকে একসময় জিতে সংসদে গিয়েছেন অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং লালকৃষ্ণ আদবানি৷ গেরুয়া রাজনীতিতে ‘আইকনিক’এই দুই ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন গান্ধীনগরের ভোটাররা৷ অটল পরলোকে, আদবানি অস্তমিত সূর্য – বিজেপিতে মোদী-শাহ জমানা শুরু হয়ে গিয়েছে৷ গান্ধীনগরও নতুন প্রার্থী পেয়েছে – অমিত অনীলচন্দ্র শাহ৷

এমন নয় যে অমিত নিজেকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রেখেছিলেন৷ জোট তৈরি থেকে প্রার্থী বাছাই, সংগঠন থেকে রণনীতি – বিজেপির ছোটবড় সব বিষয়েই নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত৷ মোদীর সঙ্গে মঞ্চ দেখা গিয়েছে অমিতকে৷ রাজনৈতিক জনসভায় দলের বার্তাকে প্রচার করেছেন৷ টেলিভিশনেও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন৷ গেরুয়া রাজনীতির চাণক্যের উপরেই রয়েছে স্পটলাইট৷ রাজ্য সভার সাংসদ হিসেবে নয়, জনতার ভোটে জিতে সংসদে যেতে চান অমিত৷

কিন্তু কেমন আছেন আদবানি? কিছুদিন আগেই ব্লগ লিখেছেন৷ ওই ব্লগেই আদবানি লিখেছেন, রাজনৈতিক বিরোধীরাই শত্রু নয়৷ তারা দেশ বিরোধীও নয়৷ স্বাভাবিকভাবেই আদবানির এই ব্লগ কাটার মতো বিঁধেছে মোদী-শাহের সাম্রাজ্যে৷ মোদী সরকারের আমলে ওঠা অসহিষ্ণুতার অভিযোগ, সরকার বিরোধীদের দেশ বিরোধী আখ্যা দেওয়ার ঘটনা কম সমালোচিত হয়নি৷ সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার, গান্ধীনগরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর আদবানির জয়ের বার্তা ইঙ্গিতবাহি৷ প্রশ্ন উঠেছে, কার জয়ের কথা বললেন আদবানি, মোদী-শাহের, নাকি নিজের৷ প্রসঙ্গত যে ব্লগ তিনি লিখেছিলেন তাঁর শিরোনাম ছিল – দেশ প্রথম, পার্টি তারপর, ব্যক্তি সব থেকে শেষে৷’’