মুম্বই: অ্যানফিল্ডে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে লিভারপুল৷ ০-৩ পিছিয়ে থেকে ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকে ৪-০ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছেছে ‘দ্য রেডস’৷ লিভারপুলের কর্নার থেকে চতুর্থ গোলকে টুইটারে সেফটি ক্যাম্পেন হিসেবে ব্যবহার করেছে মুম্বই পুলিশ৷

আলেকজান্ডার আর্নল্ডের সুযোগসন্ধানী কর্নার থেকে গোল করে লিভারপুলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন ওরিগি৷ এই গোল থেকে সাধারণ মানুষকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ মুম্বই পুলিশের৷ ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায়, ৭৯ মিনিটে নির্ণায়ক গোলটি আসে ওরিগির পা থেকে৷ বার্সার ডিফেন্স সে সময় ছিলেন শুধুমাত্র জেরার্ড পিকে৷ ফলে আনমার্ক ওরিগির গোল করতে অসুবিধা হয়নি৷

নু’ক্যাম্পে প্রথম লেগে বার্সেলোনার কাছে ০-৩ গোলে পিছিয়ে থাকায় ফাইনালে যাওয়ার জন্য লিভারপুলের দরকার ছিল ৪-০ বা তার বেশি ব্যবধানে জেতা৷ আর সেটাই করে দেখান দ্য রেডস ফুটবলাররা৷ সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে প্রবেশ করল পাঁচবারের ইউরোপ সেরা লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে দ্য রেডস যে মরণকামড় দেবে, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন ফুটবল অনুরাগীরা। কিন্তু এহেন প্রবল প্রত্যাঘাতের আঁচ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কাতালান ক্লাবটি। নইলে হয়তো গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে রোমার কাছে অপ্রত্যাশিত হার থেকে শিক্ষা নিতেন পিকে-বুসকেটসরা।

সালাহ-ফিরমিনোর অনুপস্থিতিতে লিভারপুলের আপফ্রন্টে ম্যাচের শুরুতে এদিন ছিল ওরিগি ম্যাজিক। অধিনায়ক হান্ডারসনের গোলমুখী শটটার স্টিগেন প্রতিহত করলে ওত পাতা শিকারির মত ফিরতি বল জালে রাখেন ওরিগি। তবে গোলটির পিছনে ছিল লিভারপুলের টিমগেমের ফসল। পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধে একাধিকবার গোল করার মত অবস্থায় পৌঁছে যায় বার্সা। কিন্তু কখনও মেসি কখনও কুটিনহোকে আটকে যেতে হয় লিভারপুলের ব্রাজিলিয় গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের বিশ্বস্ত দস্তানায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আহত অ্যান্ডি রবার্টসনের পরিবর্ত জর্জিনিয়ো উইনালডামের জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত হয় বার্সা রক্ষণ। ৫৪ মিনিটে প্রথমে আলেকজান্ডার আর্নল্ডের ক্রস থেকে দুরন্ত ভলি, ঠিক দু’মিনিট বাদে শাকিরির ক্রস থেকে নিজেকে উচ্চতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে এগ্রিগেটে দলকে সমতায় ফেরান ডাচ ফুটবলার। শুরু হয় বার্সার পিঠ বাঁচানোর লড়াই। কারণ অ্যাওয়ে ম্যাচে যে কোনও মূল্যে একটি গোল তাদের পৌঁছে দিতে পারত ফাইনালে। কিন্তু গোল করা করা দুরস্ত চার গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিল মেসি অ্যান্ড কোং৷