নয়াদিল্লি: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মামলার কথা প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, লিভ-ইনে থাকার পর বিয়ে না হলে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। তবে, এবার সেই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি একে সিক্রি ও এস আব্দুল নাজিরের বেঞ্চ জানিয়েছে, যদি কোনও মহিলা ও পুরুষ পরস্পরকে ভালবেসে একসঙ্গে বসবাস করে এবং সম্মতিক্রমে যৌন মিলন হয়, তাহলে পরিস্থিতির চাপে সেই সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ে না হলেও ধর্ষণের মামলা করা যাবে না। সেক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভাঙার মামলা হতে পারে, কিন্তু ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করা যাবে না।

শীর্ষ আদালতের মতে, ‘ধর্ষণ এবং সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্কের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।’ এক্ষেত্রে আদালতকে বুঝতে হবে যে, ওই পুরুষ সঙ্গী কোনও বিশেষ কারণে বিয়ে করতে অক্ষম নাকি শুধুমাত্র যৌন লালসা চরিতার্থ করার জন্যই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস করেছিল।

মহারাষ্ট্রের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক নার্সের অভিযোগের শুনানি চলছিল এদিন। সেই সময়ে এই রায় দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। মামলার শুনানি শেষে আদালত জানায়, অভিযোগকারী নার্স নিজের ইচ্ছেতে ওই চিকিত্‍সকের সঙ্গে সহবাস করতেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, একাকীত্ব থেকে ওই চিকিত্‍সকের প্রেমে পড়েন তিনি এবং একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তীতে চিকিৎসক অন্য মহিলাকে বিয়ে করেন। এরপরই অভিযোগ দায়ের করেন ওই নার্স। তবে তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করেনি ওই চিকিৎসক। দু’জনের মতেই শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

চিকিত্‍সক শারীরিক বা মানসিক বল প্রয়োগ করে তাঁকে লিভ ইন করার জন্যে বাধ্য করেননি। ফলে তাঁকে বিয়ে না করে অন্য কোনও মহিলাকে বিয়ে করার জন্যে ওই চিকিত্‍সকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায় না।