স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এর আগেও দলের নেতাদের শোধরানোর অনেক টনিক দিয়েছেন তিনি৷ কিন্তু মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে দলীয় কাউন্সিলরদের তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে হাই-ভোল্টেজ বার্তা দিলেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ৷ এদিন তিনি বুঝিয়ে দিলেন, দলে কেউ-ই কেউকেটা নয়৷ সবাইকে মাটিতে পা রেখে চলতে হবে৷

দল চালাতে গিয়ে একাধিক ভুল করেছে তৃণমূল। লোকসভা ভোটের ফল বেরোতে সেই উপলব্ধি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷২০২০- এর পুরসভা নির্বাচনের আগে মানুষের সঙ্গে যাতে তাদের সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায় এখন চেষ্টাই করেছেন তিনি৷এদিন, প্রায় তিন হাজার দলীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে নজরুল মঞ্চে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিজেপি-র সমালোচনা করলেও দলের কিছু কাউন্সিলরের ভূমিকাতেই যে তিনি খুশি নন, তা এ দিন প্রকাশ্য সভাতেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “স্থানীয় উন্নয়ণের টাকা সাংসদ, বিধায়কদের কাছে থাকে না। কাউন্সিলররাই জনগণের কাজ করার জন্য সরাসরি হাতে টাকা পান। তাই কাউন্সিলরদের উচিত মানুষের জন্য কাজ করা। সাধারণ মানুষ গালাগাল করলে শুনতে হবে। তাঁদের জন্য কাজ করতে হবে।”

মমতা বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে আপনাদের এখন থেকেই ভাল করে নামতে হবে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগণায়। কয়েকটা পকেট আছে যেখানে ডেঙ্গু বেশি হয়। সেখানে এখন থেকেই অ্যাকশনটা নিতে হবে। একটাও খারাপ ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।এলাকায় যদি ভাল কাজ না হয়, দোষটা দলের উপর পড়ে, ভাল কাজ হলে দলের সুনাম বাড়ে। আমার অনেক কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি যত্ন করে কাজ করে, অনেকে খেয়ালই করে না। বাড়ি আর প্রোমোটিং ছাড়া কিছু ভাবে না তারা।”

এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, কারও অধিকার নেই সরকারি কাজের বা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা নেওয়ার। মমতা বলেন, “কন্যাশ্রী থেকে সবুজসাথী সব প্রকল্প থেকেই অনেকে কাটমানি খাচ্ছে। এমনকী শব সৎকারের সমব্যথী প্রকল্পের ২০০০ টাকা থেকেও ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে অনেকে।”দলত্যাগী নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে মমতার অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে অনেকেই বিজেপি-তে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে বাকি যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা কেউ দুর্নীতি করলেও যে তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন৷মমতা এদিন কাউন্সিলরদের বলেন, এতদিন কাটমানি খাওয়া টাকা কাউন্সিলরদের জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে।