স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : যত বর্ষায়, ততটাই গর্জয়। বুধবার বিকেল থেকে শহরের আকাশ নাগাড়ে ডাক ছেড়ে চলেছে। রাত ভর বৃষ্টি হয়েছে ঢিমে তালে কিন্তু মেঘের গর্জন ছিল দ্বিগুন। মাঝে মাঝেই বিদ্যুতের ঝলকানি, তারপরেই কখনও প্রচণ্ড জোড়ে কখনও রাগে ফুঁসে ওঠার মতো শব্দ। যা আজও একইরকম ভাবে বর্তমান। আর এটাই প্রবাদ বাক্যকে বদলে দিয়েছে। ‘যত গর্জয়, তত বর্ষায় না’ উপমা বদলে বলা যেতে পারে যত বর্ষায়, ততটাই গর্জায়।

কিন্তু এই অতিরিক্ত তর্জন গর্জনের কারণ কী? হাওয়া অফিস জানাচ্ছে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে স্কোয়াল লাইন’ বা ‘মেঘ-মালা’ তৈরি হয়েছে। আর এত মেঘের জমাটিতে মেঘে মেঘে নাগাড়ে ধাক্কা লাগছে। কেউ কাউকে জায়গা ছাড়ছে না। ফল, নাগাড়ে মেঘের গর্জন সহ বিদ্যুতের ঝলকানি।

বুধবার সন্ধ্যায় ৬.২৩ মিনিটে আলিপুরে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিতে এক মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী ছিল কালবৈশাখী। চলতি মরসুমে এটি ষষ্ঠ কালবৈশাখী। গতির নিরিখে সর্বোচ্চ। ৬ মে আলিপুরে আছড়ে পড়া কালবৈশাখীর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭১ কিলোমিটার। বুধবার দমদমেও ঘণ্টায় ৮৬ কিলোমিটার গতিবেগে কালবৈশাখী বয়ে যায়।

কলকাতার পাশাপাশি এদিন দুপুর থেকেই ঝড়, ঝাপটা হয় পুরুলিয়া, বর্ধমানের মতো যে জেলাগুলিতে। এই জেলগুলি আবার আমফানের তেমন প্রভাব পড়েনি। এবার সেখানে ঝাপটা মারল কালবৈশাখী। পুরুলিয়া, বর্ধমানের আউশগ্রাম, কালনায় গাছ পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। মন্তেশ্বরে জখম হন দু’জন। হুগলির আরামবাগে গাছ পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন দু’জন।

পাঁচিল ভেঙে হাড়োয়ার আদমপুরে এক জনের মৃত্যু হয়। কলকাতায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিপাড়া, খান্না মোড়ের কাছে দু’টি গাছ ভেঙে পড়ে। আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার।

অন্যদিকে, এক ধাক্কায় শহরের পারদ নেমেছে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্বাভাবিকের অনেক নীচে কলকাতার তাপমাত্রা। ফলে ফের উধাও জ্যৈষ্ঠের গরম। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস , যা।স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি কম। বুধবারে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি কম। আর্দ্রতার পরিমান সর্বোচ্চ ৯৬ , সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ। বৃষ্টি হয়েছে ৪৪.৩ মিলিমিটার।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প