সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মাটি থেকে ২০০ মিটার উপরে বিশাল মেঘমালা যা ১০০ শতাংশ ঘিরে রয়েছে কলকাতাকে। আর তাতেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।

শনিবার থেকেই বারবার মেঘ নীচে নেমে এসেছে কলকাতার এবং হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। ফের আরও একবার বিকেল হতেই বিশাল বর্ষার মেঘ ঘিএ ফেলে শহরকে এবং শহর জুড়ে এখন চলছে ব্যাপক বৃষ্টি।

এদিন দুপুর বেলা আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায় যে, বিশাল বড় মেঘমালা মাটির খুব কাছে চলে আসে রাজ্যের ছয় জেলায়। এই তালিকায় ছিল পশ্চিমের বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মালদহে। সতর্কতায় জানানো হয় প্রবল বজ্রপাত হতে পারে। বিহারের ঘটনা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এই পূর্বাভাস দেয় হাওয়া অফিস। সেই মেঘই ক্রমে শহরের দিকে এগিয়ে আসে এবং পুরো শহরকে ঘিরে ফেলে। শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি এবং সঙ্গী ছিল বজ্রপাত।

যদিও ওই মেঘ পশ্চিমের জেলারগুলির মতো মাটির খুব কাছে চলে সেনি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানান যে , ‘২০০ মিটার উচ্চতায় মেঘ খুব উঁচুর মেঘ নয়। তবে যেহেতু পুরো ১০০ শতাংশ মেঘে ঢেকে যায় আকাশ তাই বজ্রপাতও বেশি হয়েছে। তবে পশ্চিমের জেলার মতো আশঙ্কার কোনও কারণ ছিল না।’

প্রসঙ্গত শনিবার তুমুল বৃষ্টিতে রবিবার সকালে নামে পারদ। কমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও। এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া অফিসের পারদ মাপক যন্ত্র। রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি কম। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এই ডিগ্রি বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৫৮.৮ মিলিমিটার, রাত সাড়ে আটটা থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয় ৫৬.১ মিলিমিটার।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শহরে বৃষ্টির পরিমান ১৩ মিলিমিটার, আর্দ্রতার পরিমান সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৬৮ শতাংশ। সকাল পর্যন্ত দমদমে ৪৩ মিলিমিটার, সল্টলেকে ৪২.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। দুপুরে দমদমে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, সল্টলেকে ০.২ মিলিমিটার বৃষ্টির খবর মিলেছে।

বৃহস্পতিবার ব্যাপক বজ্রপাতে বিহারজুড়ে কমপক্ষে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে তিন শিশুও ছিল। বজ্রবিদ্যুতে জখম হন বহু মানুষ। মৃতদের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বজ্রবিদ্যুতে ৮৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়ে। এর মধ্যে ১৩ জন মারা যান গোপালগঞ্জ জেলায়। সরকারি একটি সূত্র জানা যায়, মধুবনী ও নবাদা জেলায় ৮ জন করে মারা যান। ভাগলপুর ও সিওয়ানে বজ্রপাতের বলি ৬ জন করে। বাঙ্কা, দ্বারভাঙা ও পূর্ব চম্পারণ জেলায় পাঁচ জন করে মারা যান।

এ ছাড়া খাগারিয়া ও ঔরঙ্গাবাদ জেলায় বজ্রপাতে ৩ জন করে মারা যান। জেহানাবাদ, কিষানগঞ্জ, পশ্চিম চম্পারণ, জামুই, পূর্ণিয়া, সুপাউল, কৈমুর ও বক্সারে ২ জন করে মারা যান। সরান, শিবহর, সমস্তিপুর, মাধেপুরা ও সীতামারিতে একজন করে মারা যান ওই ভয়ঙ্কর বজ্রপাতে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ