বারাকপুর: পণের দাবিতে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল এক শিশুকে৷ সাত বছর আগের এই ঘটনায় তিন খুনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত৷ মঙ্গলবার এই রায় দেয় বারাকপুর মহকুমা আদালত৷ দোষীদের নাম রাকেশ পাণ্ডে, বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং দীপঙ্কর সরকার৷

বারাকপুর মহকুমা আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক তৃতীয় কোর্টের বিচারক মদন মোহন মিশ্রর এজলাসে এই মামলার রায় দান হয় মঙ্গলবার৷ সাত বছর ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ার পর তিন খুনিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক৷ সঙ্গে প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা৷

ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর৷ সেদিন থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় দমদম থানার অন্তর্গত মধুগড় এলাকার বাসিন্দা শুভম চক্রবর্তী৷ বছর সাতেকের শুভমকে সেদিন গৃহশিক্ষক বাড়িতে পড়াতে এসেছিলেন৷ শুভম বাথরুমে যাবে বলে উঠে যায়৷ কিন্তু বেশ খানিকটা সময় কেটে গেলেও সে আর আসেনি৷ মুহূর্তের মধ্যে ঘরের বাইরে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় বছর সাতের ওই নাবালক৷

আরও পড়ুন: রাতের কলকাতায় বিধ্বংসী আগুন

বহু খোঁজাখুঁজির পরও শুভমের পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পায়নি৷ সেদিন রাতেই শুভমের বাবা শুভেন্দু চক্রবর্তীর মোবাইলে অজানা নম্বর থেকে একটা ফোন আসে৷ ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, ছেলেকে ফিরে পেতে হলে ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে শুভেন্দুবাবুকে৷ পরদিনই দমদম থানায় ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন শুভেন্দু চক্রবর্তী৷

এরইমধ্যে প্রতিবেশী রাকেশের কথায় সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর৷ দমদম থানার পুলিশকে তারা বিষয়টি জানায়৷ পুলিশও তার কথায় অসঙ্গতি পাওয়ায় গ্রেফতার করে৷ তদন্তে নেমে রাকেশকে জেরা করে দমদম থানার পুলিশ জানতে পারে টাকার লোভে রাকেশ তার দুই বন্ধু বিশ্বজিৎ ঘোষ ও দীপঙ্কর সরকারকে নিয়ে এক নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে৷

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের মঞ্চে সতীর্থর জন্মদিন পালন ব্রাজিল ফুটবলারদের

টাকার লোভে সাত বছরকে এক নাবালককে অপহরণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি৷ প্রাণে মেরেও ফেলে তারা৷ রাকেশের সূত্র ধরেই এরপর একে একে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বিশ্বজিৎ ও দীপঙ্কর৷ প্রথমে মৃতদেহটির বিষয়ে কিছু জানায়নি এই তিনজন৷ পরে পুলিশ নানাভাবে জেরা করে উদ্ধার করে শুভমের মৃতদেহ৷ ধৃত তিনজনকে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কিছুদিন পর আমিনপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত খড়িবাড়ি অঞ্চলের একটি মাছের ভেরি থেকে পুলিশ উদ্ধার করে শুভমের হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ৷

সেই নৃশংস খুনের মামলার বিচার চলছিল গত সাত বছর ধরে৷ অবশেষে বিচার পেলেন সন্তানহারা দমদমের চক্রবর্তী দম্পতি৷ শুভেন্দুবাবু একটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করেন৷ ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য তার কোনওদিনই ছিল না৷ এদিন আদালতচত্বরে ছেলের খুনের আসামীদের শাস্তি ঘোষণা শুনে কিছুটা শান্তি পেয়েছেন পুত্রহারা বাবা৷

আরও পড়ুন: দুর্বারের কোর টিমের জন্য চলছে আবাসিক প্রশিক্ষণ

শুভেন্দু চক্রবর্তী জানান, ‘‘ছেলের হত্যাকারীরা শাস্তি পাওয়ায় আমি খুশি৷ বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি৷’’ এদিকে মঙ্গলবার খুনিদের আদালত থেকে বের করার সময় চিত্র সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তিন আসামী তাঁদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ ঘটনাটি পুলিশের সামনেই হয়৷ পরে বারাকপুর আদালতের পুলিশ কর্মীরা নিরাপওা বাড়িয়ে তিন খুনিকে বারাকপুর লকআপের ভিতরে নিয়ে যায়৷