কলকাতা: বয়ঃসন্ধির পর অধিকাংশ বাবা-মায়ের কাছেই ছেলে-মেয়েরা কিছুটা রহস্যময় হয়ে ওঠে৷ কারণ ১২-১৩ বছর পার হওয়ার পরই ছেলে-মেয়েদের মধ্যে একটা স্বাধীনচেতা মনোভাব তৈরি হয়৷ আর এতেই ঘটে বিপত্তি ৷ এইসময় যেহেতু বোধশক্তি পূর্ণতা পায় না তাই বাবা-মায়ের অনেকটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন৷ বয়ঃসন্ধির সমস্যা সম্পর্কে কি জানাচ্ছেন বিশিষ্ট মনোবিদরা?

কী কী সমস্যা হয়? এই সময় বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তের ফলে শরীরে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে৷ স্বাধীন চেতা মনোভাব। পূর্ণবয়স্ক সুলভ ব্যক্তিত্ব। সামাজিক ও আর্থিক নির্ভরতা থেকে আপেক্ষিক স্ব-নির্ভরতায় রূপান্তর। অন্য লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট যৌন কার্যকলাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

বাবা-মায়েদের পরামর্শ- ১২-১৩ বছর বয়সে যেহেতু বোধশক্তি পূর্ণতা পায় না তাই বাবা-মায়ের অনেকটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন৷ মনে রাখতে হবে ওরা বড় হলেও অপরিনত৷ এইসময় বাবা-মায়ের ভূমিকা হওয়া উচিত বন্ধু বা উপদেষ্টার মতো ৷ একই সঙ্গে ওদের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে ৷

বাবা-মায়েরা অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাব দেখালে ছেলে-মেয়েরা তাঁদের থেকে অনেক কিছু আড়াল করে ৷ এমনকি কখনও কখনও বাবা-মায়েদের শত্রু মনে করে তাঁরা৷ এর ফলে সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দূরত্ব তৈরী হয় ৷ অতিরিক্ত শাসন ওদের মানসিক বৄদ্ধিতে বাধা হতে পারে৷

সন্তানদের কাছে বাবা-মায়ের প্রত্যাশা থাকবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু দেখবেন সেই প্রত্যাশার একটা সীমারেখা থাকা দরকার ৷

প্রাকৄতিকভাবে এই পরিবর্তন সমস্ত মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে৷ তাই বয়ঃসন্ধির সময় ওদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারাটাই বুদ্ধিমানের কাজ ৷ সত্যিকারের বন্ধুকে টিনএজাররা এইসময়টা আঁকড়ে ধরতে চায়৷ সুতরাং বাবা-মা যদি হন সেই বন্ধু, তাহলে ক্ষতি কি? তা বলে কি শাসন থাকবে না? নিশ্চই থাকবে৷ তবে মনে রাখবেন শাসনটা যেন বাড়াবাড়ি রকম কিছু না হয় ৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওদের ম্যাচিওরিটি বাড়লে ভালো–মন্দ ওরা সহজেই বুঝতে পারবে ৷