স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: অসতর্ক দুই তরুণীর জীবন বাঁচিয়ে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নৈহাটির জীবন সরকার। তার চিকিৎসার খরচ যোগাতে এই মুহূর্তে হিমশিম খাচ্ছে তাঁর পরিবার৷ কিন্তু দেখা নেই ওই তরুণীর৷

বৃহস্পতি বার উত্তর ২৪ পরগণার শ্যামনগর রেল স্টেশন সংলগ্ন ২৩ নম্বর রেল গেটে দুই তরুণীকে প্রাণে বাঁচিয়ে ছিলেন জীবন বাবু৷ কিন্তু ওই দুই তরুণীকে বাঁচানোর পর ঘটনাস্থলে জীবন বাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে চলে গিয়েছিল তাঁরা৷ এখনও তারা অন্তরালে৷ জীবন বাবুর চিকিৎসায় কোন রকম সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি ওই দুই তরুণী৷ এমনকি খোঁজও নেননি কেমন আছেন জখম জীবন সরকার। এদিকে জীবন সরকারের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে যথেষ্টই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা৷

আরও পড়ুন : রক্তাক্ত জয়নগরে জমাট বাধছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

শুক্রবার জীবন বাবুর আত্মীয়রা জানান, তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতার। সেই অর্থ কোথা থেকে যোগান দেবে তা বুঝে উঠতে পারছে না তাঁর পরিবার৷ নৈহাটির ৬ নম্বর বিজয় নগরে সামান্য ফাস্টফুডের দোকান চালিয়ে সংসার চালাতেন জীবন। বাড়িতে কার্যত তিনি একাই থাকতেন। আত্মীয় বলতে তিন দিদি ও দুই দাদা রয়েছে। স্ত্রী কয়েক বছর আগেই তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে৷ তার দাদা ও দিদি প্রত্যেকের আলাদা আলাদা সংসার রয়েছে। তবে জীবন সরকারকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে সব রকম চিকিৎসার বন্দোবস্ত করছেন তাঁরা।

জীবন বাবুকে বৃহস্পতিবার রাতেই নদিয়ার কল্যাণী জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে তাঁর পরিবার৷ তিনি বর্তমানে কলকাতার ওই বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই মুহূর্তে তাঁর নৈহাটির বাড়িতে উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।

আরও পড়ুন : পৌরসভায় বচসা, বাম কাউন্সিলরকে সমর্থন তৃণমূলের

এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরুন জীবন। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, যাঁদের উপকারের জন্য এগিয়ে এসে নিজের জীবনের পরোয়া করলেন না জীবন বাবু, তাঁরা এখন কোথায়? তারা এখনও এগিয়ে আসেনি কেন জীবন বাবুর আর্থিক সহযোগিতায়? এটাই কি তাদের মানবিকতা?

8 COMMENTS

  1. মনেপড়ে বেশ কয়েক বছর আগের কথা। কোলকাতা পুলিশের এক সার্জেন্ট মাঝরাতে যাদের বাচাতে জীবন দিয়েছিলেন তারাও আর যোগাযোগ করেন নি।

  2. দেশের মানুষের মানসিকতা বলতে আর কিছু নেই। “তারা হয়তো ওনার রক্তাক্ত অবস্থায় ভি দি ও তুলেছে এখন সেটা বন্ধুদের ভাইরাল করতে ব্যস্ত…উন্নত প্রজন্ম কম্পিউটার প্রজন্ম বলে কথা এই সব ছোট খাটো ব্যাপার..”……আমি ও আপনার সাথে একমত।

  3. তারা হয়তো ওনার রক্তাক্ত অবস্থায় ভি দি ও তুলেছে এখন সেটা বন্ধুদের ভাইরাল করতে ব্যস্ত…উন্নত প্রজন্ম কম্পিউটার প্রজন্ম বলে কথা এই সব ছোট খাটো ব্যাপার…

Comments are closed.