স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: গত কয়েক সপ্তাহের বন্যাতে রাজ্যের নদীতীরবর্তী জেলাগুলি কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত। এবছর বন্যায় জেলার মধ্যে সব থেকে বেশী ক্ষতি হয়েছে মালদহ জেলা। একে বন্যা তার উপর গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়ার মত রয়েছে বর্ষার ফলে ভরা নদীতে নৌকা ডুবির মত ঘটনা। একের পর এক নৌকা ডুবির ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসনও।

জানা গিয়েছে, এবার থেকে নৌ পারাপারের ক্ষেত্রে আইন মেনে যাত্রী উঠানো এবং নামানো না করলে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে জেলার বিভিন্ন ফেরি পারাপার সংগঠন গুলিকে। শুধু তাই নয় আরও জানা গিয়েছে, যাত্রী পারাপারে ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর, শুক্রবার জেলায় বন্যা প্রতিরোধ সহ বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি জেলার নৌকা মালিকদের হাতে এদিন তুলে দেওয়া হয় সাতশো লাইফ জ্যাকেট।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার মালদহ শহরে জেলা প্রশাসনের একটি অনুষ্ঠানে এই লাইফ জ্যাকেট ও কিছু লাইফ রিং তুলে দেওয়া হয় নৌকার মালিকদের হাতে। লাইফ জ্যাকেট বিতরণীর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলাশাসক অরুণ কুমার রায়, জেলা পরিষদের কর্মধক্ষ্য সরলা মুর্মু সহ জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

এদিকে লাইফ জ্যাকেট হাতে নিয়ে নৌকার মাঝি সুশান্ত মাহাতো জানিয়েছেন, ‘আমরা কখনোই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপার করিনা’। অথচ দেখা যায় অনেকেই জোরপূর্বক নৌকাতে উঠে যায়। সে ক্ষেত্রে বাধা দিলে তাদের কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ঘটনা বেশিরভাগ সময়ে সন্ধ্যার পরেই ঘটে। ফলে সেই ক্ষেত্রে নৌকার মাঝিদের কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে নৌকা চালাতে হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিকে নৌকা ডুবির ঘটনার পর থেকে যাত্রীদের এবং মাঝিদের নিরাপত্তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় খুশি হয়েছে সকলে। জানা গিয়েছে এবার থেকে মাঝিরা যাতে বেশী যাত্রী নৌকায় না তুলতে পারে এবং কোনও যাত্রী যাতে জোর করে ভিড় নৌকায় না ওঠেন সেদিকে নজর রাখতে জেলার নদীগুলির ঘাটে কড়া নজরদারি চালাবে পুলিশ। শুধু তাই নয় পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি হয়েছেন নৌকার মালিকেরাও।

শুক্রবার লাইফ জ্যাকেট বিতরণীর অনুষ্ঠানের পর মালদহের অতিরিক্ত জেলা শাসক মালদহ জেলা পরিষদ অরুণ কুমার রায় জানিয়েছেন, জেলাজুড়ে মহানন্দা, গঙ্গা ও ফুলহার নদীতে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে এই সব অঞ্চলে নৌকা ব্যবহার করা হয়। ফলে সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, যাত্রী পারাপারের ক্ষেত্রে প্রত্যেককে লাইফ জ্যাকেট পড়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এদিন । সন্ধ্যার পরে এবার থেকে আর কোনও নৌকা পারাপার করবে না বলেও জানিয়েছেন জেলা শাসক অরুণ কুমার রায়। পাশাপাশি এবার থেকে যাত্রী পারাপারের আগে নৌকার ফিটনেস তদন্ত করে দেখা হবে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপার করা চলবে না। আর যে সমস্ত মালিকেরা এই আইন বা নির্দেশিকা অমান্য করে যাত্রী পারাপার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয় প্রয়োজনে পুনরায় টেন্ডার করা হবে এবং, প্রত্যেক ঘাটের তদারকি পুলিশ প্রশাসন করবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে এই বছর মালদহ জেলার তিনটি নদী গঙ্গা, ফুলহার ও মহানন্দার জল বাড়তে শুরু করে। যার ফলে স্বাভাবিক ভাবে জেলার কালিয়াচক ২ ও ৩ নম্বর ব্লক, রতুয়া, হরিশ্চন্দ্রপুর সহ বেশ কিছু গ্রামের মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েন । ফলে তাদের কাছে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয় নৌকা। তাছাড়াও বর্ষার সময়ে এই সব অঞ্চলে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয় নৌকা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপারের ক্ষেত্রে নৌকা ডুবির ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল নৌকার মালিকদের লাইফ জ্যাকেট বিতরন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে।