সিঙ্গাপুর: আশীর্বাদস্বরূপ অনেকেই বলে থাকেন— ‘দীর্ঘজীবী হও’৷ কিন্তু সেই আশীর্বাদের ফলস্বরূপ দীর্ঘায়ু যে কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে, সে কথা সচরাচর কেউই খেয়াল রাখে না৷ আর দীর্ঘায়ু যখন প্রজন্মের পর প্রজন্মের হার্ডলস টপকাতে থাকে তখনই বোঝা যায় সেই প্রবচনের মহিমা— ওমুকের বয়সের কোনও গাছ-পাথর নেই!  চিনের সেজুয়ান প্রদেশের কাই জিয়ানের বাসিন্দা লি চিং-ইউনের সঠিক বয়স ও জন্মের সঠিক দিনক্ষণ কারওরই জানা ছিল না৷ কিন্তু তাঁর নিজের দাবি অনুসারে, তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৭৩৬ সালে৷ আবার সন্দেহজনক নথিপত্র বলছে ১৬৭৭ সাল৷ অর্থাৎ হিসাবে করলে দাঁড়াচ্ছে, হয় চিং-ইউনের নিজের দাবিমতো তাঁর বয়স ১৯৭, নয়তো ‘নথি’ অনুসারে ২৫৬ বছর! তাহলে কি তিনি বহু কাল আগেই ভেঙে দিয়েছিলেন ফ্রান্সের জিয়ান্নি কালমেঁ-র ১২২ বছর ১৬৪ বছরের বেঁচে থাকার রেকর্ড?

এহেন মেথুজেল্যা লি চিং-ইউনের মৃত্যু হয় ১৯৩৩ সালের ৬ মে৷ চিনে তখন চিয়াং কাই-শেকের রাজত্ব৷ আরও জনশ্রুতি, এই লি চিং-ইউন নাকি ২৪টি বিয়ে করেছিলেন৷ মানে এক বউ মরেছে, তো অমনি আবার বিয়ে! একেবারে শেষে যাঁকে বিয়ে করেন সেই স্ত্রী নাকি এখনও জীবিত৷ বয়স ৬০৷ যদিও ১৯৩৩ সালে যাঁর ‘মেথুজেল্যা’ বর দেহ রেখেছেন, তাঁর বয়স কী করে এই ২০১৬ সালে ৬০ বছর হয়, তা কোনও হিসাবেই ধরা পড়ছে না৷ যদি না এক ভারতের দেবদেবীদের হিসাবমতো কোটিকল্পে গোনা যায়৷ এখানেই শেষ নয়, মৃত্যুকালে লি চিং-ইউন নাকি প্রায় ২০০ সন্তান-সন্ততি রেখে যান৷ চোখে দেখে যান নিজের পরবর্তী এগারো প্রজন্মকে৷ কোনও কোনও মতে অবশ্য ২০০ নয়, তাঁর সন্তানসন্ততির সংখ্যা ১৮০৷ বিয়েও ২৪ বার করেননি, করেছিলেন ১৪ বার৷ গপ্পের গোরু বলছে, ১৯৩০ সালে চিনের মিংকুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উ চুং-চিয়েনই নাকি লি চিং-ইউনের নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে পান, এই মহাস্থবিরের জন্ম ১৬৭৭ সালে৷ উ চুং-চিয়েনের দাবি মোতাবেক, চিনা রাজশক্তি লি চিং-ইউনের ১৫০ ও ২০০তম জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তাও পাঠিয়েছিলেন৷

স্থানীয় উপকথা বলছে, লি চিং-ইউন খুব ছোট থেকেই লিখতে ও পড়তে শিখেছিলেন৷ দশ বছর বয়সে থেকেই তিনি বেরিয়ে পড়েন পরিব্রাজনে৷ বলা বাহুল্য, তাঁর সেই পরিব্রাজনের উদ্দেশ্য স্বামী বিবেকানন্দের সমধর্মী ছিল না৷ তিব্বত, মাঞ্চুরিয়া সহ চিনের কানসু, শানসি প্রদেশ ঘুরে লি চিং-ইউন নাকি শ্যামদেশ (তাইল্যান্ড), আন্নাম (মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর) পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন৷ অমরত্ব ও যৌবনবর্ধক জড়িবুটি এবং ঔষধি গাছগাছড়া সংগ্রহই ছিল তাঁর ঘুরে বেড়ানোর মূল লক্ষ্য৷

গপ্পোটা মোটামুটি ভালোই৷ তবে বহুলাংশেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর এখনও জীবিত থাকার মতো৷