ঢাকা: জীবন মরণের ‘চোরাবালি’ তে তলিয়ে গেলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা ও বিশ্বজনীন বাঙালিদের মোবাইলে চূড়ান্ত হাস্যরসের ভান্ডার এটিএম শামসুজ্জামান। শনিবার ঢাকার সূত্রাপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

একুশে পদক প্রাপ্ত অভিনেতার কন্যা কোয়েল আহমেদ জানিয়েছেন, আব্বা আর নেই। শুক্রবার বিকেলে আব্বাকে বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। উনি হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না।

বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রবীণ অভিনেতা। হাসপাতালে একটু ভালো হতেই বাড়ি আসেন। শনিবার তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ঢালিউড। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া।

১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র আগমন হয় এটিএম শামসুজ্জামানের। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নেন গুণী এই অভিনেতা।

কৌতুক মেশানো খলনায়ক চরিত্রের চিরন্তন অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। তাঁর চরিত্রগুলি বারবার দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। সেই ছবি দুই বাংলায় ঝড় তুলেছিল। ছবিতে তাঁর ভূমিকা দেখে চমকে গিয়েছিলেন দর্শকরা।

কৌতুকময় জীবনের দ্বন্দ্ব তাঁকে বিশেষ মর্যাদার আসন দিয়েছে। সেই অভিভক্ত পাকিস্তান আমলে তাঁর চলচ্চিত্রে আসা। তারপর মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত সময় পেরিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন করে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক মহলের কৌতুক রাজা হয়েই থাকবেন এটিএম শামসুজ্জামান।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্ম নোয়াখালীর দৌলতপুরে। ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্র নাথ দাস লেনে। চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি পরিচিত।

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন।

কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ লাভ করেন এ শিল্পী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।