সময়টা ভালো যাচ্ছে না এলজি স্মার্টফোনের। যখন এলজি জি5 বাজার আসে, তখন অনেক স্মার্টফোন সংস্থার গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। কারণ অ্যাডভান্সড টেকনলজি সংস্থাটি বরাবরই নতুন চমক আনে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দারুণ স্পেসিফিকেশনের ফোনটি ব্যর্থতা দেখেছে। কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে কতক্ষণ। এবার সর্বসাম্প্রতিক ভি-সিরিজ স্মার্টফোন ভি20 নিয়ে বাজি ধরেছে কোরিয়ান এই সংস্থাটি। এর আগে ভি10 স্মার্টফোন দিয়ে আলোড়ন তুলেছিল এলজি। গত বছর বের হলেও কখনো ভারতীয় বা আশপাশের বাজার আসেনি। কিন্তু এবার এশিয়ার এই অংশের বাজার দখল নেবে তারা।

ভারতের এলজি ইন্ডিয়ার মার্কেটিং বিভাগের প্রধান অমিত গুজরাল জানান, ভি10 ছাড়ার জন্য গতবার প্রস্তুত ছিল না বাজার। এলজি20 এর দাম ধরা হয়েছে ভারতের বাজারে ৫৪৯৯৯টাকা। এর স্পেসিফিকেশন সাধারণত অতি উচ্চ ক্ষমতাশালী স্মার্টফোনে দেওয়া হয়। এটা সরাসরি গুগল পিক্সেল এক্সএল, জেনফোন 3 ডিলাক্স এবং স্যামসাং গ্যালিক্সি এস7 এজ এর প্রতিযোগী হবে। এলজি’র খুচরা দোকান ও অ্যামাজনে পাওয়া যাবে ফোনটি। এর আগে এলজি’র যে কোনও হ্যান্ডসেটের ডিজাইনকে টেক্কা দেবে ভি20। সামনের প্যানেলে রয়েছে ডুয়াল ডিসপ্লে। একটি মূল স্ক্রিন। অন্যটি টিকার ডিসপ্লে। ওপর, নিচ এবং ক্যামেরা সেন্সরগুলো কাচে মোড়ানো। একে একটা ঝকঝকে ক্রিস্টালের টুকরা বলেই মনে হয়। ক্যামেরায় অটোফোকাসের সঙ্গে রয়েছে ডুয়াল-টোন এলইডি ফ্ল্যাশ। এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে নিচের দিকে। এর ব্যাটারি বদলানো যাবে।

এই ফোনটিকে ৫-৬ ফুট ওপর থেকে ফেলতে বলা হয়েছে। কোথাও কিছুই হবে না। দুটো সিম কার্ড রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। একটি ভেতরে ব্যাটারির ঠিক ওপরেই। ন্যানো সিম ব্যবহার করতে হবে। এর পর্দাটি ৫.৭ ইঞ্চির কিউএইচডি কোয়ান্টাম এলসিডি প্রযুক্তির। তুলনামূলকভাবে পর্দাটি পছন্দ হবে না। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস7 এজ এর ডিসপ্লেতে রংয়ের বর্ণিল ছটা দেখা যায়। সাধারণত অ্যামোলেড ডিসপ্লেতে এমনটাই হয়। তবে আরামদায়ক পর্দা অবশ্যই পাবেন। কম, মধ্যম এবং উচ্চ আলোতে চমৎকার দেখা যাবে। এর ২.১ ইঞ্চির দ্বিতীয় পর্দায় রয়েছে 160×1040 পিক্সেলের রেজ্যুলিউশন। এখানে বিভিন্ন অ্যাপের শর্টকাট থাকবে। এখান থেকে মিউজক এবং নোটিফিকেশন দেখা যাবে।

কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর দেওয়া হয়েছে।  প্রসেসরকে স্পিড দেবে ৪ জিবি র‍্যাম। যদিও ৬ জিবি র‍্যাম নিয়ে বাজারে আসছে অনেক ফোন। কিন্তু এর প্রয়োজন নেই। এর র‍্যাম দরকার হয় না এবং তার ব্যবহারও ঘটে না। আন্দ্রিনো ৫৩০ জিপিইউ দারুণ গ্রাফিক দেবে। পেছনের ক্যামেরাটি 16 মেগাপিক্সেলের এবং ব্যাটারি 3200এমএএইচ শক্তির। সামনের ক্যামেরাটি 8 মেগাপিক্সেলের। উভয় ক্যামেরাতে কম আলোয় অনেক ভালো ছবি তোলা যায়। সামনের ক্যামেরাটি ১৩৫ ডিগ্রি কোণের ছবি তুলতে সক্ষম। এই ফোনটি কোন ফ্ল্যাগশিপ বা প্রিমিয়াম ফোনের আমেজ দিতে পারেনি। তবে পুরোদমে উৎপাদন ও মার্কেটিং শুরু হলে এর দাম অনেকটা কমে আসতে পারে।