নয়াদিল্লি: রাজধানীর মাটিতে বেড়ে উঠলেও বর্তমানে দিল্লিতে পা রাখতে চান না সুনীল ছেত্রী। কারণটা একমাত্র নয়াদিল্লির মাত্রাছাড়া দূষণ। ‘এমন পরিবেশে নিজেকে ফিট রাখাই একটা মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’ জানালেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক।

দিওয়ালির রাতে রাজধানীর দূষণ সূচক পৌঁছেছিল ৪২৩-এ। যা নাকি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। আর স্বাভাবিকভাবেই এমন পরিস্থিতিতে বহু মানুষের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। বছর দু’য়েক আগে ভারত সফরে এসে ফিরোজ শা কোটলায় টেস্ট চলাকালীন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের দেখা গিয়েছিল মাস্ক পরে খেলতে। সেই ঘটনার রেশ ফিরে আসতেই পারে আগামী ৩ নভেম্বর। কারণ ভারত সফরে এসে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা ফিরোজ শা কোটলার মাটিতেই খেলবে বাংলাদেশ।

আর এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছেত্রীও। এমন পরিস্থিতিকে ‘অ্যালার্মিং’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে এলেই চোখে জ্বালা অনুভব করি। বিদেশি খেলোয়াড়রা দিল্লিতে পা রাখলে মাস্ক ব্যবহার করে থাকে বলে জানি। দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে বিশ্বাস আমার। আমি দিল্লির ছেলে হলেও খুব কম এখানে আসি। দিল্লির পরিবেশে নিজেকে ফিট রাখা ভীষণ কঠিন কারণ অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় দূষণের মাত্রা এখানে অনেকটাই বেশি। এটা ভালো ব্যাপার নয়।’ শহরের মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকার জন্য কিছু টিপসও দিয়েছেন ছেত্রী।

ছেত্রী জানিয়েছেন, ‘সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করুন, শারীরীক কসরত করুন, বেশি খাওয়াদাওয়া করবেন না। পরিবেশকে দোষ না দেওয়াই ভালো কারণ আমরা নিজেরাই সেভাবে সচেতন নই।’ সম্প্রতি নিজেকে ফিট রাখতে এবং কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করতে নিজেকে একজন ভেজিটেরিয়ানে কনভার্ট করেছেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। পাশাপাশি সম্প্রতি আইএসএল’কে দেশের প্রধান লিগের মর্যাদা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এএফসি’র সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আশা রাখব আগামিদিনে সমস্ত স্টকহোল্ডাররা ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একসঙ্গে এগিয়ে আসবে।’

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে এশিয়া চ্যাম্পিয়ন কাতারকে তাঁদের ঘরের মাটিতে রুখে দিলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সম্প্রতি ড্র করেছে ভারত। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার বিষয়ে যা অনেকটাই ধাক্কা দিয়েছে ব্লু টাইগার্সদের। তবু হাল ছাড়তে রাজি নন বেঙ্গালুরু এফসি স্ট্রাইকার। আসন্ন আফগানিস্তান ও ওমানের বিরুদ্ধে ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সক্রিয় আন্তর্জাতিক ফুটবলার হিসেবে বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।