বিশেষ প্রতিবেদন: পর্যটন মানচিত্রে লাভা-লোলেগাঁও এখন সুপরিচিত। গরমের হাত থেকে বাঁচতে বিশেষত মে-জুন মাসে এখানে পাড়ি জমান অনেক পর্যটক। লাভা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ৮২৫০ ফুট পাহাড়ি উচ্চতায় অবস্থিত রিশপ। নেওড়া ভ্যালির কোলে এই পাহাড়ি জনপদ কালিম্পং অঞ্চলের সেরা পর্যটন কেন্দ্র এখন অনেকের কাছেই প্রিয়।

কলকাতার গরম থেকে পালিয়ে রিশপের নিরিবিলি ঠান্ডায় প্রাণ জুড়িয়ে আসুন! রিশপ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ অকল্পনীয়। ‘রিশপ’-এর অর্থ পাহাড়চূড়া আর গাছ। দার্জিলিং জেলার পাহাড়ের মাথায় ছোট্ট এই গ্রামে বেড়াতে গেলে মনে হবে নামটা সত্যিই সার্থক। কারণ, এখান থেকে পাখির চোখে দেখে নেওয়া যায় ভারত ও নেপালের গোটা দশেক পর্বতচূড়া!

সঙ্গে রয়েছে পাইন বন। টিফিনদাড়া ভিউ পয়েন্ট থেকে পাহাড়ের প্যানোরমা দেখতে লাগে দারুণ। রিশপ থেকে দেখা যায় নাথুলা আর জেলেপলা পাসের কিছুটা অংশ। যা এক কথায় অপূর্ব। পাহাড়ের গায়ে সব সময় মেঘ ভেসে বেড়ায়। দেখে মনে পড়ে যাবে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন: ‘এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে’। তবে রিশপে যে কোনও সময়েই আকাশের মুখ ভার হয়ে যেতে পারে। সঙ্গে অবশ্যই ছাতা রাখুন। যখন তখন ঝমঝমিয়ে নামবে বৃষ্টি। এই পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর জোঁক ঘুরে বেড়াই। তাই ঘাসের ওপর দিয়ে হেঁটে চলার সময় সতর্ক থাকুন।

বিকেলের রিশপ ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে বেশ উপভোগ্য। মুখ তুলে দেখে নিন কঞ্চনজঙ্ঘা। সূর্যাস্তের পর আশপাশের পাহাড়ে জোনাকির মতো আলো জ্বলে ওঠার দৃশ্য মনমুগ্ধকর! রিশপে ৫-৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় কোথাও পিচ নেই, পুরোটাই অসমান এবড়ো খেবড়ো পাথরের। রাস্তা কখনও হঠাৎ করে উঁচু হয়ে যায়, কখনও বা নিচু। তাই এই রাস্তায় হাঁটর জন্য স্পোর্টস সু পড়ুন।

ছোট্ট একটা মনাস্ট্রি রয়েছে রিশপে। পায়ে হেঁটেই দেখে নিতে পারেন। রিশপ থেকে ট্রেক করেও যাওয়া যায় লাভায়। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ঘণ্টাখানেকের ডাউনহিল ট্রেক। রিশপ খুবই ছোট জনপদ, লাভার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বছর কয়েক হল এখানে হাতে গোনা হোটেল গড়ে উঠেছে। রিশপে বিদ্যুৎ এবং জল পর্যাপ্ত নয়। পরিমিত জলে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে রাত্রি ৮টা ৩০ মিনিটে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন নিউ মাল জংশনে নামুন। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে সরাসরি পৌঁছে যান রিশপ।

কোথায় থাকবেন: হোটেল রিশপ গ্রিন পার্ক, ফোন- ৯৮৩৬০২২৩৪৪, ভাড়া ১০০০-২২৫০ টাকা।