নয়াদিল্লি: ভারতের বুকে বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে লস্কর-ই-তইবা৷ নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ঘাঁটি গেড়ে স্থানীয় ছেলেদের সংগঠনে টেনে আনা এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে নাশকতা ঘটাতে তাদের ব্যবহারের ছক কষেছে লস্কর৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট মানলে সেই ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে৷ উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ ও গোরক্ষপুরে তৈরি হচ্ছে লস্করের দুটি ঘাঁটি৷

কেন উত্তরপ্রদেশকেই বেছে নিয়েছে লস্কর? এর অনেক কারণ উঠে এসেছে গোয়েন্দা রিপোর্টে৷ ভারতে হামলার প্রস্তুতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লস্করের শীর্ষ কমান্ডার মহম্মদ উমর মাদনিকে৷ এই মাদনির উপর রয়েছে নেপালের কপিলাবস্তুতে থাকা লস্করের বেস ক্যাম্পের দায়িত্ব৷ নেপালে সংগঠনের আড়ালে একটি এনজিও চালায় সে৷ সেই এনজিও তে প্রচুর বিদেশি অনুদান আসে৷ সেই অনুদানের অর্থ ব্যবহৃত হয় জঙ্গি কার্যকলাপে৷

সেই মাদনিকে উত্তরপ্রদেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে৷ আর উত্তরপ্রদেশের ঠিক কাছেই নেপাল সীমান্ত৷ ফলে সীমান্ত পেরিয়ে খুব সহজেই সে দুই দেশে যাতায়াত করতে পারবে৷ আর উত্তরপ্রদেশে সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সংখ্যালঘু হল মুসলিমরা৷ ফলে ধর্মীয় বিদ্বেষের তাস খেলে মুসলিম যুবকদের সংগঠনে টেনে আনা সহজ হবে মাদনির৷

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, লস্করের প্ল্যান হল জঙ্গি ঘাঁটি তৈরির পর স্থানীয় ছেলেদের ব্রেনওয়াশ করে সংগঠনে টেনে আনা৷ এরপর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জঙ্গি তৈরি করা৷ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এই নয়া জঙ্গিদের মাধ্যমে ক্ষত বিক্ষত হবে ভারত৷ তবে লস্করের কর্মকাণ্ড কেবল উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না৷ এর পরিধি আরও ছড়িয়ে যেতে পারে৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই বছরের শুরুতে মাদনি কলকাতা এবং বিহারে এসেছিল৷ বিহারের দ্বারভাঙাতে ঘন ঘন যাতায়াত করেছে সে৷ এতে গোয়েন্দাদের অনুমান, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চায় লস্কর৷ হয়তো ভবিষ্যতে দ্বারভাঙাতে ঘাঁটি তৈরি করতে পারে৷

গোয়েন্দারা এখন জানার চেষ্টা করছে ভারতে লস্করের জাল কতদূর বিস্তৃত হয়েছে৷ কাদের কাদের ব্রেনওয়াশ করা হয়েছে? তাদের চিহ্নিতকরণ করে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই চ্যালেঞ্জ৷ আর সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ মাদনিকে খুঁজে বের করা৷ গাছের ডাল না কেটে শিকড় থেকে উপড়ে দিলে ডালপালা নিজে থেকেই ঝরে যাবে৷