সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ,কলকাতা: কাঞ্চনের মতোই ওর পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গিয়েছিল ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ গল্পের চরিত্র কাঞ্চন। শেষ পর্যন্ত শহরের বাস্তব দেখে শেষে ফিরে আসতে হয়েছিল নিজ গ্রামে। ঠিক তেমনই যেন বেঙ্গল সাফারির চিতাবাঘ সচিনের গল্পটিও। পালিয়ে যেতে চেয়েছিল ঘর বাড়ি ছেড়ে। পার্কের কর্মীদের সম্ভবত ভেবেছিল শত্রু। নিজের জীবনকে সুন্দর করার তাগিদে ঝাঁপ দিয়েছিল। তবু ফিরেই আসতে হল সচিনকে। বাইরের পৃথিবীটা বড়ই কঠিন যে।

ঘরের ছেলে সচিন বাইরে গিয়ে দুনিয়া দেখার চেষ্টা করল। গাছ থেকে খাঁচার বাইরে লাফ দিয়ে এসে ভেবেছিল ‘মুক্তি’ মিলেছে। দিন তিনেক বনকর্মীদের ফাঁকি দিয়ে অনেক ঘুরে বেরালো। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে সচিন বুঝেছে এই মুক্তি তার জন্য নয়। খাবার সামনে আছে। কারণ সম্পূর্ণ ভাবে তৃণভোজীদের এলাকায় ঢুকে পড়েছিল বাঘটি। তিন দিন পেরিয়েও কোনও ক্ষতি হয়নি পার্কের তৃণভোজীদের। তখনই বনকর্মীরা বুঝে গিয়েছিলেন চিতাবাঘের ফিরে আসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

সিনেমার চরিত্র কাঞ্চন যেমন শহরের দুনিয়ায় এসে বুঝেছিল বাস্তব কতটা কঠিন তেমনই হয়তো ভেবেছিল সচিনও কারণ সে শিকার করতে জানে না। তাই হরিন সামনে দেখেও কিভাবে তাঁকে শিকার করবে তার মগজে আসেনি বলেই জানা যাচ্ছে বনদফতর সূত্রে। খিদেয় পেট জ্বলছে কিন্তু খাবার নেই। দূর থেকে পাচ্ছে খাবারের গন্ধ কিন্তু জানে খাবার খেতে গেলেই জালে ধরা পড়বে। তিন দিন এমন ভাবেই ফাঁদ পেতে অপেক্ষা করেছে বনদফতর। অপরদিকে বাঘ সেই সময় বহির্বিশ্বের বাস্তব পরখ করতে ব্যস্ত। ঠিক কাঞ্চনের মতোই।

তিন দিন বাদে সে সম্ভবত বুঝে গিয়েছিল এই বিশ্ব তার জন্য নয়। যেমনটা বুঝেছিল কাঞ্চন ফিরে যেতে চেয়েছিল বাড়িতেই। সচিন আর ভাবনাচিন্তা করেনি। বুঝে গিয়েছিল ১০০ বর্গ কিলোমিটারের ওই এলাকাই তার জন্য সঠিক। তাই ফিরে যাও।

শুক্রবার বিকেলবেলা গুটি গুটি পায়ে তাই সে নিজেই এসে ঢুকে বসে পড়ে পাতা ফাঁদের মধ্যে। গরাদ বন্ধ করে চিতাবাঘকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ওর নিজ এলাকায়। প্রত্যেকদিন চার থেকে পাঁচ কিলো মাংস দেওয়া হত সচিনকে। কখনও ওই একই পরিমানের মোষের মাংসও দেওয়া হতো খাবার জন্য। এর পরেও কেন যে সচিন পালানোর চেষ্টা করছিল তা এখনও ঠাহর করতে পারেনি পার্ক কর্তৃপক্ষ। এখন তাকে রাখা হয়েছে কড়া নজরদারিতে।