সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : রেল ও সড়ক পথে গতির ব্যাপক শিকার হচ্ছে বন্যপ্রান। যেমন প্রশ্ন উঠছে রেলের উপর তেমনই প্রশ্ন উঠছে হাইওয়েতে গাড়ির গতির উপরেও। তথ্য বলছে গত এক দশকে ২৭৮ শতাংশ হারে বেড়েছে ট্রেন ও গাড়ির ধাক্কায় চিতাবাঘের মৃত্যু। চমকে দেওয়া এই তথ্য দিল্লির ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন অফ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত ট্রেন ও গাড়ির ধাক্কায় ৮৩টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী ৭৩টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে গাড়ির ধাক্কায়। ১০ টি’র মৃত্যু হয়েছে ট্রেনের ধাক্কায়। এই পরিসংখ্যান আতঙ্কের কেন ? তথ্য অনুযায়ী বিগত কয়েক দশকেও এমন ঘটনা ঘটেছে , কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে এক এক দশকে গড়ে ২০টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে এমন দুর্ঘটনায়। ২০০৯ থেকে ২০১৯ এই দশকে এই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। অঙ্কের হিসাবে বিগত দশকে ৫৯ টি চিতাবাঘের মৃত্যু বেড়েছে এমন দুর্ঘটনায়, যা সত্যিই আশঙ্কার বলে মনে করা হচ্ছে।

বন্যপ্রানের উপর কি হারে অত্যাচার বাড়ছে মানুষের সেই তথ্য আরও স্পষ্ট হবে আরও একটি তথ্য দিলে। ২০১৯ সালে ভারতে ১১০টি বাঘ এবং ৪৯১টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে। চোরা শিকারিদের হাতেই মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভারতের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটি অব ইন্ডিয়াই ওই তথ্য জানিয়েছিল। তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গত বছর মৃত্যু হওয়া ১১০টি বাঘের মধ্যে ৩৮টির মৃত্যু হয়েছে চোরা শিকারিদের হাতে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৪। ওই বছর ১০৪টি বাঘ মারা গিয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ৫০০টি চিতাবাঘ মারা যায়। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা কমে হয়েছে ৪৯১টি। তবে চিতাবাঘের মৃত্যুও বেশি ঘটেছে সেই চোরা শিকারিদের হাতেও। পাশাপাশি বিঁধছে রেল ও সড়ক দুর্ঘটনায় চিতাবাঘের মৃত্যুর পরিসংখ্যান।

ভারতে বাঘের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, উত্তরাখন্ড, আসাম, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড, রাজস্থান, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, অরুণাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও মিজোরামে রয়েছে এসব বনাঞ্চল। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঘ রয়েছে উত্তরাখন্ডের করবেট বনাঞ্চলে। এখানে ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ২১৫টি। এরপর রয়েছে কর্ণাটকের বন্দিপুর বনাঞ্চলে, সেখানে বাঘের সংখ্যা ১২০। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আসামের কাজিরাঙ্গা, সেখানে বাঘ আছে ১০৩টি। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে রয়েছে ৬৮টি বাঘ।