গুয়াহাটি: গর্ভবতী হাতীর বীভৎস মৃত্যুতে এখনও বাকরুদ্ধ মানুষ। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল আরও এক নৃশংসতার ছবি। নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হলে এক চিতাবাঘকে।

অসমের গড়চুকের কাঠাবাড়ি এলাকার ঘটনা। শনিবার হত্যা করা হয় ওই চিতাবাঘটিকে। স্থানীয়রাই পিটিয়ে মেরে ফেলে তাকে।

জানা গিয়েছে, চিতাবাঘের দাঁত, নখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে একটিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে চিতাটির হাত পা ধরে ঝোলাচ্ছে স্থানীয় মানুষ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই দৃশ্য থেকেই স্পষ্ট যে ঠিক কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছে চিতাবাঘের উপর।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘোরাফেরা করছে সেই ছবি। রীতিমত উল্লাস চলছে বাঘের দেহ নিয়ে। পরে তার চামড়াও ছাড়িয়ে ফেলে গ্রামের মানুষ। ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যাদের, তাদের মধ্যে থেকেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বন দফতর সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত। বন দফতরের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন যে, ভোর ৫ টায় তাঁরা বাঘটির খবর পান কিন্তু তাঁদের পৌঁছতে দেরি হয়। ততক্ষণে বাঘ পালিয়ে যায়।

স্থানীয় কিছু লোকজন জঙ্গলের ভিতর ঢুকে বাঘটিকে মেরে ফেলে। অভয়ারণ্যের মধ্যেই ঘটে ঘটনাটি।

লোকালয়ে এভাবে চিতাবাঘ ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়, ঘটেছে আগেও। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খাবারে অভাব দিনে দিনে বাড়ছে, তাই খাবারের সন্ধানেই তাঁর বারবার লোকালয়ে ছুটে আসছে।

গত সপ্তাহে নৃশংস ভাবে আনারসের মধ্যে বাজি দিয়ে হত্যা করা এক হাতিকে। মৃত্যুর সময় ওই হাতিটি গর্ভবতী ছিল। ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে শেয়ার হয়ে ভাইরাল হয়। সারা দেশ এই ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে ওঠে।

প্রচুর সেলেবরাও এই ঘটনায় টুইট করেন। সাধারণ মানুষও বিচারের জন্য অনলাইনে সই সংগ্রহ করতে শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন জানান, ঘটনার দোষীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।

মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছিল কেরলের মল্লপুরমে। এক গর্ভবতী ক্ষুধার্ত হাতি গ্রামে এসেছিল। কিছু গ্রামবাসী তাকে আতশবাজি ভরা একটি আনারস খাওয়ায়। গলার ভেতরে সেই আতশবাজি ফাটতে থাকে।

অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে হেঁটে হেঁটে নদীতে গিয়ে মুখ ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেই মা হাতিটি। কিন্তু সেখানেই মৃত্যু হয় অবলা প্রাণীটির। গর্ভের সন্তানের আর পৃথিবীর আলো দেখা হয় না। এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে মানবিকতা।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব