নাম পাতিলেবু হলেও গুনে সে একেবারেই পাতি নয়৷ পাঁচতারা হোটেল হোক বা রাস্তার ধারে সস্তা ভাতের হোটেল সবজায়গাতেই তার সমান আদর। কারণ পাতিলেবু পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল৷ তাই বাড়ির ছাদে দু-একটা লেবু গাছ থাকলে সারাবছর ভাতের পাতে লেবুর ব্যাপারে নিশ্চিন্তে থাকা যায়৷ সেই সঙ্গে পরিবারের ভিটামিন সি এর অভাব দূর করা যায়। কৃষিবিদরা জানাচ্ছেন, শীতকালই আদর্শ সময় পাতিলেবু চাষের৷

পাতিলেবু চাষের পদ্ধতি:
১. ছাদে লেবুর চারা লাগানোর জন্য টব সংগ্রহ করতে হবে।

২. টবে তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে। যাতে গাছের গোড়ায় জল জমে না থাকে। টবের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।

৩. এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৩০-৪০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৩০-৪০ গ্রাম পটাশ সার, ১০-১৫ গ্রাম পাথর চুন এবং ২০০ গ্রাম হারের গুঁড়ো বা ১ কেজি কাঠের ছাই দিয়ে ড্রাম বা টব ভরে জলে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন৷ খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে।

৪. যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা ওই টবে রোপন করতে হবে। চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়।

৫. চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি জল না ঢুকতে পারে। একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে ।

৬. চারা লাগানোর পর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় যেন জল জমে না থাকে। মাটি শুকিয়ে গেলে অল্প পরিমানে জল দিতে হবে। লেবু জাতীয় কোন গাছে কখনই বেশী পরিমানে জল দিয়ে স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থায় রাখা যাবে না।

অন্যান্য পরিচর্যা:
গাছ লাগানোর চার-পাঁচ মাস পর থেকে নিয়মিত ২০-২৫ দিন অন্তর অন্তর সরষের খোল পচিয়ে সেই জল প্রয়োগ করতে হবে। এ কাজের উপরই ছাদের গাছের ফলন অনেকাংশে নির্ভর করছে। সরষের খোল ১০ দিন জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে । এরপর সেই পচা সরষের খোল পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। ২ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । আরও একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে গাছে প্রায়ই কিছু ডাল মরতে দেখা যায়। এইসব মরা ডালগুলো কেটে দিতে হবে৷