সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়:এই বার তৃণমূল কংগ্রেস আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বেশ কিছু বর্তমান বিধায়ক মন্ত্রী বাদ পড়েছেন। সেক্ষেত্রে ওই সব প্রবীন বিধায়কদের জায়গা করে দিতে ক্ষমতা এলে বিধান পরিষদ গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা ঘটনা এ রাজ্য এক সময় বিধান পরিষদ ছিল কিন্তু এখন আর নেই। পাঁচ দশক আগে এই রাজ্য বিধান পরিষদ অবলুপ্ত হয়েছে।

ভারতবর্ষে রাজ্যগুলির আইনসভার একটি অঙ্গ হল বিধান পরিষদ। দ্বিকক্ষীয় রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ হিসেবে বিধান পরিষদ  কাজ করে থাকে। পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়ে থাকেন এই কক্ষের সদস্যরা । এটি একটি স্থায়ী কক্ষ অর্থাৎ এই কক্ষ অবলুপ্ত করা যায় না। তবে দেশের বহু রাজ্য থেকেই এখন বিধান পরিষদ অবলুপ্ত হয়েছে ৷ আপাতত ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এখনও বিধান পরিষদের অস্তিত্ব রয়ে গিয়েছে। সেই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে – উত্তরপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ৷ এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গেও বিধান পরিষদ ছিল কিন্তু ১৯৬৯ সালে যুক্তফ্রন্ট আমলে এ রাজ্য থেকে বিধান পরিষদ উঠে যায়। এ রাজ্যে বিধান পরিষদ উঠে যাওয়া ঘিরে দুই বামদল সিপিআই- সিপিএমের মধ্যে তখন ভালই কাজিয়া লেগেছিল ৷

১৯৬৭ সালে রাজ্য পালাবদলের পর যুক্তফন্ট সরকার গড়লেও তা স্থায়ী হতে পারেনি। এরপর ১৯৬৯ সালে অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ফের জিতে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়েছিল ৷ তখন ক্ষমতায় আসার কিছু দিনের মধ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে একটা লড়াই পাকাতে রাজ্যে বিধান পরিষদ বিলোপের ইস্যুটা তোলা হয়েছিল ৷ অনেকটা কেন্দ্রকে জব্দ করার উদ্দেশ্য এই ইস্যু সিপিএম তুললেও এর মাধ্যমে পাশাপাশি সিপিআই-কে বেকায়দায় ফেলার একটা উদ্দেশ্য ছিল বলে অনেকেই তখন মনে করতেন।

তখন সিপিএমের পক্ষ থেকে দলের মন্ত্রীদের বলা হয় এই বিষয়টা তুলে মন্ত্রিসভায় পাশ করিয়ে নিতে ৷ যেহেতু যুক্তফ্রন্টের ৩২ দফা কর্মসূচিতে এই বিধান পরিষদ বিলোপের প্রতিশ্রুতি ছিল সেহেতু মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা যখন তোলা হয় সেটা নিয়ে তেমন কোনও আপত্তি ওঠে না এবং তা পাশ করিয়ে নেওয়া হয়৷ রাজ্যে বিধানসভায় বিধান পরিষদ বিলোপের প্রস্তাব পাশ হলেও ওই সময় মনে করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরোধিতা করবে কারণ রাজ্য বিধান পরিষদে বেশির ভাগ সদস্যই তখন কংগ্রেসের ৷ আর সিপিএম তখন ভেবেছিল কেন্দ্র এর বিরোধিতা করলে তখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা হবে৷

এদিকে কার্যক্ষেত্রে একেবারে ভিন্ন ঘটনা ঘটে যায় ৷ রাজ্য কংগ্রেস এ ব্যাপারে তেমন বিরোধিতা না করায় কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে থেকে বিধান পরিষদ বিলোপের কোনও বিরোধিতা এল না৷ আর এমন ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে গেল সিপিআই ৷ কারণ তখন রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সিপিআইয়ের বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন। আর এক মন্ত্রী রেণু চক্রবর্তী বিধান সভা বা পরিষদ কোনটারই সদস্য ছিলেন না৷ ফলে এই দুজনকে মন্ত্রী রাখতে গেলে তখন অন্য কোনও জায়গা থেকে বিধায়ক করে আনতে হত  আর তা নিয়ে গোল শুরু হল

সিপিএম তখন এই বিলটি পাশ করানোর জন্য একেবারে উঠে পড়ে লাগে ৷ বিধান পরিষদ উঠে গেলে সিপিএমের যে একেবারেই কোনও ক্ষতি হত না তা কিন্তু নয় ৷ তাদেরও দুই মন্ত্রী ছিলেন বিধান পরিষদের সদস্য ৷ কিন্তু তাদের বিধায়ক করার বিকল্প ব্যবস্থা সিপিএম করে ফেলেছিল৷ কিন্ত সিপিআই-এর পক্ষে বিকল্প ব্যবস্থা করাটা আদৌ যে সহজ হবে না সেটা সিপিএম বুঝেছিল । কোনও রকমে বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্য মেদিনীপুরে একটি আসন পাওয়া গেলেও রেণু চক্রবর্তীর জন্য দলীয় কোনও বিধায়ককে পদত্যাগ করাতে পারেনি সিপিআই৷ ফলে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তেই হয়েছিল৷

এছাড়া বিধান পরিষদ বিলোপের ফলে আরও দুই জন মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন৷ তাঁরা হলেন- একজন হলেন আরসিপিআই-এর সুধীন কুমার এবং বলশেভিক পার্টির বরদা মুকুটমণি৷ এরা দুজনেই যখন মন্ত্রী হয়েছিলেন তখন এঁনারা কেউ না ছিলেন বিধানসভার সদস্য না বিধান পরিষদের সদস্য৷ ভাবা হয়েছিল ভবিষ্যতে পরিষদের সদস্য করে নিয়ে মন্ত্রিত্ব চালিয়ে যাবেন৷ কিন্তু বিধান পরিষদ বিলোপের ফলে সেই আশাভঙ্গ হয় ৷ তাছাড়া এরা কেউ তখন কোনও বিধায়ককে রাজি করাতে পারেননি তাঁদের জন্য পদত্যাগ করার ৷

অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২১ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় বিধান পরিষদ অবলুপ্তির একটি প্রস্তাব পাস হয়। এরপর ভারতীয় সংসদেও পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদ (অবলুপ্তি) আইন, ১৯৬৯ পাশ হয়েছিল। তারপর ১৯৬৯ সালের ১ অগস্ট এখানকার বিধান পরিষদ অবলুপ্ত হয়। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পুনরায় এই পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি৷ কয়েকদিন আগে ফের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধান পরিষদ গঠনের কথা বলেছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।