প্রতীকী

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ধর্ষণের ঘটনা রুখে দিতে পারে যৌনতা! তবে, ওই যৌনতাকে হতে হবে অবাধ৷ এবং, তার জন্য দিতে হবে আইনি স্বীকৃতি৷

আইনি স্বীকৃতির অবাধ ওই যৌনতার সুযোগ অবশ্য মিলবে যৌনপেশার মাধ্যমে৷ আর, যৌনপেশার জন্য আইনি ছাড়পত্র দেওয়া হলে, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রুখে দেওয়া সম্ভব হবে ধর্ষণ অথবা গণধর্ষণের ঘটনা৷ ধর্ষণ রোধের দাওয়াই হিসেবে এমনই অবাধ যৌনতার কথা বলছেন এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনকর্মীরা৷ এবং, তার জন্য যৌনপেশাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে জোরাল সওয়ালও করছেন তাঁরা৷

শুধুমাত্র তাই নয়৷ ধর্ষণ রোধের দাওয়াই হিসেবেও যাতে যৌনপেশাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার, সেজন্য আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের যৌনকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনের তরফে আরও জোরদার আন্দোলনের পথে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে৷ সব মিলিয়ে, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনকর্মীদের অন্যতম দাবি, যৌনপেশার আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক৷ তার জন্য দ্য ইমমরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট অর্থাৎ, আইটিপিএ-র বিলোপ ঘটানো হোক৷

যৌনপেশাকে যাতে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তার জন্য অবশ্য দীর্ঘ বছর ধরেই আন্দোলনে শামিল রয়েছেন এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনকর্মীরা৷ একই সঙ্গে, যৌনপেশা সংক্রান্ত নানা ধরনের সমস্যা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মতো যাতে যাবতীয় অধিকারও পান যৌনকর্মীরা,  সে সবের জন্যও জারি রয়েছে তাঁদের আন্দোলন৷ অধিকার আদায়ের ওই আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে এককাট্টা হচ্ছে এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের যৌনকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন৷ যার অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক অফ সেক্স ওয়ার্কার্স (এআইএনএসডব্লু)৷

শুধুমাত্র তাই নয়৷ শরীর ইস্যুতে যৌনকর্মীদের প্রশ্নে বিদ্ধ হতে হচ্ছে সিনেমার নায়িকাদের একাংশকেও৷ জাতীয় স্তরের ওই সংগঠনের নতুন যুগ্ম সচিব তথা বিহারের পূর্ণিয়ার যৌনকর্মীদের সংগঠন অম্রপালি কল্যাণ সমিতির সচিব রেখা রানির কথায়, ‘‘সেক্স ওয়ার্কারদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের তরফে সেভাবে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু, সেক্স কি দেশ থেকে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব?  যদি তা বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়, তো করে দেখাক সরকার৷ তা হলে এ দেশে ধর্ষণও রুখে দেওয়া সম্ভব হবে৷’’

একই সঙ্গে রেখা রানি বলেন, ‘‘দেশ থেকে সেক্স কী করে বন্ধ করে দেওয়া যাবে৷ বরং, যৌনপেশার আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক৷ যৌনকর্মীদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হলে দেশে ধর্ষণও রুখে দেওয়া সম্ভব হবে৷’’ মহারাষ্ট্রের নাসিকের যৌনকর্মীদের সংগঠন দিশা মহিলা বহুউদ্দ্যেশীয় সংগঠনের সচিব তথা এআইএনএসডব্লু-র অন্য যুগ্ম সচিব লতা কাপসে বলেন, ‘‘আইটিপিএ-র বিলোপ চাইছি আমরা৷ এই আইনের বিলোপ করে যৌনকর্মীদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক৷ যৌনপেশার আইনি স্বীকৃতি মিললে এ দেশে ধর্ষণও রুখে দেওয়া সম্ভব হবে৷’’

ধর্ষণ রুখে দেওয়ার দাওয়াই হিসেবে অবাধ যৌনতার পক্ষে যৌনকর্মীদের যুক্তি, যৌনতার বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশে এখনও যেভাবে ভীতির পরিবেশ রয়েছে, যৌনপেশার আইনি স্বীকৃতি মিললে তা দূর হয়ে যাবে৷ কাজেই, শরীরের প্রয়োজনে কোনও যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌনতার ক্ষেত্রে কোনও রকমের ভয় থাকবে না৷ আর, তার জেরে এ দেশে ধর্ষণও রুখে দেওয়া সম্ভব হবে৷ এআইএনএসডব্লু-র কোষাধ্যক্ষ পুতুল সিং-ও বলেন, ‘‘যৌনপেশাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হলে ধর্ষণও রুখে দেওয়া সম্ভব হবে৷’’ একই সঙ্গে তাঁর উদ্বেগ এবং আশঙ্কা,  ‘‘ধর্ষণের ঘটনা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে যৌনপেশাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া না হলে আগামী দিনে আরও বেশি ধর্ষণের ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে৷’’

ধর্ষণ রুখে দিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাওয়াইয়ের উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন মহলের তরফে৷ যার মধ্যে অন্যতম দাওয়াই হিসেবে আইনি পথের উল্লেখ করা হয়েছে৷ অর্থাৎ, দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা৷ যদিও, কোনও কোনও মহল থেকে আবার দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির বিষয়ে সমালোচনা এবং বিতর্কও কম দেখা দেয়নি৷ ওই সমালোচনা-বিতর্কের পক্ষে প্রশ্নও তোলা হয়েছে, ধর্ষণ রুখে দিতে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা কি যথাযথ? কারণ, তেমন শাস্তি প্রদান সত্ত্বেও এড়ানো যাচ্ছে না ধর্ষণের ঘটনা৷ কিশোরী হেতাল পারেখকে ধর্ষণের পর খুন করার অপরাধে ২০০৪-এর ১৪ অগস্ট ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে৷ কোনও কোনও মহলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ধনঞ্জয়ের ফাঁসি সত্ত্বেও কি রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে ধর্ষণ অথবা গণধর্ষণের ঘটনা?

সম্ভব হয়নি৷ বরং, ক্রমে বেড়েই চলেছে এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণ-গণধর্ষণের ঘটনা৷ তা সে, দিল্লির নির্ভয়া-কাণ্ড হোক অথবা পশ্চিমবঙ্গের কামদুনি৷ তা সে, এ রাজ্যেরই লাভপুর হোক অথবা রানাঘাট৷ শুধুমাত্র আবার এই কয়েকটি ঘটনাও নয়৷ এই সব ঘটনার আগে এবং পরেও পশ্চিমবঙ্গ সহ এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণ অথবা গণধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে৷ ধর্ষণ অথবা গণধর্ষণের সময় নৃশংস অত্যাচারের কাহিনিও কম নেই৷ কাজেই, ধর্ষণ রোধের দাওয়াই হিসেবে যৌনকর্মীদের ওই অবাধ যৌনতার পক্ষেও সায় দিচ্ছে কোনও কোনও মহল৷

============================================

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।