স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুকুল রায়৷ একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড৷ বর্তমানে গেরুয়া শিবিরের অন্যতম নেতা৷ সেই রামপন্থী মুকুলের হয়েই আইনি লড়াইয়ের সারথী বামপন্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য৷ নদিয়ায় কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খুনে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন মুকুল রায়৷ সেই মামলাতেই বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন বিকাশবাবু৷

আরও পড়ুন: লোকসভা ভোটের মুখে রাজ্যে ফের আইপিএস অফিসারদের বদলি

মঙ্গলবার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা৷ দুই ভিন্ন মেরুর আদর্শের দল৷ রাত দিন উঠতে বসতে একে অপরকে বিঁধতে ছাড়ে না তারা৷ এগিকে আবার সামনেই ভোট৷ এহেন পরিস্থিতিতে মুকুল-বিকাশ এক সারিতে! মঙ্গলবার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জল্পনা৷ রাজ্যের শাসক দলকে বিব্রত করতেই কী এই পদক্ষেপ তাঁদের? প্রশ্ন উঁকি মারছে নানা মহলে৷

এযাবৎ বাম-বিজেপির শত্রু তৃণমূল৷ কিন্তু কেন্দ্রে মোদী সরকারকে হঠাতে সোচ্চার সিপিএম৷ তাদের দুই নেতা পাশাপাশি৷ যা বেশ বিস্ময়ের৷ তাহলে কী রাজনীতির তলে তলে অন্য সমীকরণের ইঙ্গিত? পঞ্চায়েতের পর থেকেই স্পষ্ট বামেদের ডজ করে রাজ্যের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে পদ্ম শিবির৷ মুখ্যমন্ত্রীও তাই বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই আক্রমণের নিশানা করেছে বিজেপিকে৷ তাঁর কথায় রাজ্যে বিরোধীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ৷ বিজেপি ও বামেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ছে বলেও প্রায়ই অভিযোগ করেন মমতা৷

বিকাশ মুকুল সম্পর্কের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ-ই কী মান্যতা পেল? প্রশ্ন রাজনৈতিক কারবারীদের একাংশের৷ জোড়াফুল শিবির অবশ্য মুকুল রায়ের হয়ে বিকাশরঞ্জনের আদালতে সওয়ালকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন৷ এর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিষয়টিকে প্রচারেও আনারও ভাবনা-চিন্তা করছে রাজ্যের শাসক শিবির৷

তাদের নিয়ে চর্চাকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ দুই দলের-ই রাজ্য নেতৃত্ব৷ মুরলীধর সেন লেন বা আলুমুদ্দিন স্ট্রিটের অনেকেই আবার প্রতি আক্রমণের তাস হিসাবে বেছে নিচ্ছেন মমতা সরকারের হয়ে কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি বা কপিল সিবালের আইনি লড়াইয়ের কথা৷ বাংলায় কুস্তি করলেও তাঁরা তো অন্তত্য জাতীয় রাজনীতিতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দোস্তির জায়গায় রয়েছেন৷ কিন্তু সিপিএম বা বিজেপির অবস্থান তো সম্পূর্ণ আলাদা৷ এবার গেরুয়া বা কাস্তে হাতুড়ি শিবিরের নেতাদের সাফাই পেশাদার আইনজীবী হিসাবে আদালতে সওয়াল করবেন তিনি৷ মুকুল রায় এক্ষেত্রে কেবল তাঁর মক্কেলমাত্র৷

আরও পড়ুন: গোষ্ঠীকোন্দলকে উপেক্ষা করেই মৌসমকে হারাতে তৈরি হচ্ছেন ইশা

প্রকাশ্যে অস্বস্তিতে রাম ও বামপক্ষ৷ তৃণমূল বলছে তাদের অভিযোগ-ই সত্যি৷ যত দিন যাবে তা আরও গভীর হবে৷ এই প্রেক্ষাপটে লোকসভার আগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷