কলকাতাঃ কড়া পুলিশি পাহারায় রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্ন। সিঙ্গুর থেকে পদযাত্রা করে বামেদের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই সেইঅভিযানের আগে নবান্নে বিশাল পুলিশি ব্যবস্থা, আঁটোসাটো নবান্নের সামনে নিরাপত্তা।

বাম ছাত্র যুবর মিছিলে নবান্নে ব্যাপক ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা। জল কামান, রোবো কপ, ব্যারিকেড সব নিয়ে তৈরি পুলিশ। বর্তমানে হাওড়া স্টেশনে রয়েছেন বাম ছাত্র অ যুব নেতারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে তাঁদের পায়ে হেটে নবান্ন অভিযান।

পুলিশ জানিয়েছে, মিছিল হাওড়া স্টেশন থেকে বঙ্কিম সেতু হয়ে মল্লিক ফটক পেরিয়ে নবান্নে যাবে। সেখানে  তৈরি আছে পুলিশ বাহিনী তাঁদের আটকানোর জন্য। সিঙ্গুর থেকে নবান্ন  অভিযানে ব্যাপক ঝামেলার আশঙ্কায় নিশ্চিদ্র ব্যবষ্টা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “পড়াশোনার খরচ কমানো, ছাত্র ভর্তিতে তোলাবজির টাকা ফিরিয়ে দেওয়া, কলেজ ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ফেরানো-সহ নানা দাবিতে ছাত্ররা মিছিলে অংশ নেবে। রাজ্যের যুবদের চাই কলকারখানা, চাকরি। তা না হলে প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।

এর আগে শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রের নানা দাবি নিয়ে সারা ভারত কৃষক সভা সিঙ্গুর থেকে রাজভবন অভিযান করেছিল। গত বছর ২৮ নভেম্বর রাজ্যে শিল্পায়নের দাবিতে সিঙ্গুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত পদযাত্রা করেছিল সিপিএম-এর কৃষক সংগঠন। পদযাত্রার শেষে ২৯ নভেম্বর কলকাতার রানি রাসমণি রোডে সভা হয়েছিল। কৃষকসভার দাবি ছিল, সিঙ্গুর-সহ রাজ্যের সর্বত্র শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে অবিলম্বে শিল্প স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃহস্পতিবারও বাম ছাত্র-যুবরা সেই দাবিই জানাবে পদযাত্রায়।

রাজ্য রাজনীতির পট বদলে দিয়েছিল সিঙ্গুর আন্দোলন৷ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের প্রকল্প ছিল সিঙ্গুরের গাড়ি তৈরির কারখানা। টাটা মোটর্সের ন্যানো কারখানার কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও সেই প্রকল্পের কাজ আটকে গিয়েছিল৷ “চার ফসলা” জমিতে কেন শিল্প-কারখানা হবে, এই ইস্যুতে ‘অনিচ্ছুক’ কৃষকদের স্বার্থে আন্দোলন করেছিল ঘাসফুল শিবির।

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন হয়েছিল৷ পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও সমস্ত জমি চাষযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এখন খুব সামান্য জমিতেই চাষাবাদ হয়। বামপন্থীরা এখন তাই সিঙ্গুর ইস্যুকেই ফের আন্দোলনের অভিমুখ করতে চাইছে। তাঁদের বক্তব্য, “ওই জমিতে না হল শিল্প, না হল কৃষি। এর দায় তৃণমূল কংগ্রেসেরই। তাই কৃষকসভার মতো রাজ্যের মানুষকেও সিঙ্গুরের কথা মনে করিয়ে দিতেই সেখানে থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত করছে ১২টি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন।