প্রসেনজিৎ চৌধুরী: সর্বশেষ লোকসভা আসনে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে সংসদ যাত্রায় ইতি টেনেছে বামপন্থীরা। দুই বাম দুর্গে সরকারও নেই। দিল্লিতে বামপন্থীদের মুখ রক্ষা করেছে তামিলনাডু ও কেরল।

বিন্ধ্যপর্বত পার করে হস্তিনাপুর পর্যন্ত এই যাত্রাপথে বামপন্থীদের রক্তক্ষরণ স্বাধীনতার পর সবথেকে বেশি এটা স্বীকার করে নিচ্ছেন বাম নেতৃত্ব। দেশে এখন একমাত্র কেরল যা পর্যটনের ক্যাচ লাইনে ‘ভগবানের নিজের দেশ’ বলে পরিচিত, সেখানেই শিবরাত্রির সলতে হয়ে জ্বলছে সিপিআইএম নেতৃত্বে এলডিএফ সরকার। কেরলের বিধানসভা নির্বাচন সেই অর্থে দেশে বামপন্থীদের কাছে সর্বশেষ দুর্গ।

চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই কেরলের ভোট চর্চায় উঠে আসছে। দেশে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে কেরল বারবার কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকায়। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজনৈতিক যুদ্ধ বারবার প্রচারের আলোয় এসেছে। নোটবন্দি বিরোধিতা করে দেশে প্রথম বিজয়ন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন। তার পথে হেঁটে বাকি অবিজেপি শাসিত রাজ্যের প্রতিবাদ বড় আকার নেয়।

বিতর্কিত কৃষি আইন বিরোধিতা করতেও কেরলের বাম সরকার সামনের সারিতে। এক্ষেত্রে রাজ্যে বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বের ইউডিএফ বিজয়ন কে সমর্থন করে। তবে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে কেরলের বাম সরকারের ভূমিকা বিশ্ব জুড়ে প্রশংসা পাওয়ায় সিপিআইএমের হাসি চওড়া হয়েছে।

গত লোকসভা আসনে কেরলবাসী পরিবর্তনমু়খী চিন্তাধারা প্রয়োগ করে ইউডিএফের প্রার্থীদের জয়ী করেন। এই রাজ্যে বাম সরকার থাকলেও লোকসভায় একজন সিপিআইএম সাংসদ গিয়েছেন।

তবে চমক ছিল সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত ও পুর নির্বাচনে। বিরাট শক্তি দেখিয়েছে কেরলের বামেরা। লোকসভার একেবারে উল্টো ছবি। ইতিমধ্যেই প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় উঠে এসেছে কেরলে পরিবর্তনমুখী ভোট এবার সিপিআইএমের সরকারকেই ধরে রেখে অন্য নজির গড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে কেরল বিধানসভার ১৪০টি আসনের মধ্যে ৯১টি তে জয়ী হয় বামপন্থীরা। বিরোধী ইউডিএফ পায় ৪১টি। দুটি যায় অন্যান্যদের দখলে।এবার বিধানসভার ভোটে দেশের একমাত্র বাম শাসিত রাজ্যের সরকার ধরে রাখতে মরিয়া সিপিআইএম। পরিবর্তন না হলেও নজির, আবার সরকার পাল্টে গেলেও নজির। শূন্য ভাঁড়ার নাকি শেষ পু়ঁজি আগলে রাখা, আরব সাগর তীরে হবে মারকাটারি লড়াই।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।