কলকাতা: আর্থিক বেহাল দশায় ছাঁটাইয়ের কোপে পড়তে চলেছে এবার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে। নাম করা বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মীরাও এখন ছাঁটয়েরই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন৷এই পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে চাইছে সিপিএম৷ সেজন্য সোমবার প্রতিবাদে পথে নামতে চলেছে সিপিএম।ক্ষয়িষ্ণু এই দল এবার নতুন প্রজন্মকে কাছে টানতে সল্টলেক সেক্টর-ফাইভ থেকেই শুরু করছে কর্মসূচি।

সোমাবারের এই প্রতিবাদ সভার আয়োজক যৌথ ভাবে অল ইন্ডিয়া আইটি অ্যান্ড আইটি এনাবেল্‌ড সার্ভিসেস (এআইআইটিইইউ) এবং ডিওয়াইএফআই ৷ এদিন  সেক্টর ফাইভের কলেজ মোড়ে প্রতিবাদ সভার আগে একটি মিছিলও হবে ওই অঞ্চলে৷তাছাড়া বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার দফতরের সামনে কর্মীদের সমর্থন চেয়ে প্রচারপত্রও বিলি করবে এই দুই সংগঠন। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই প্রথম সিপিএমের যুব সংগঠন পা রাখতে চলেছে৷

যদিও আগে বাম জমানাতেই সিটুর উদ্যোগে এখানে সংগঠন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল৷ তবে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন করা নিয়ে সিটু এবং তৎকালীন বাম প্রশাসনের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব ছিল৷ফলে সেই সময় এখানে ট্রেড ইউনিয়েনর উদ্যোগ তেমন সফল হয়নি।

এবার অবশ্য বাম নেতাদের আশা, পরিস্থিতি এবং  কাজের ক্ষেত্রে সঙ্কটের মুখে পড়েই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা নিজেরাই বুঝতে পারছেন ইউনিয়ন করাটা এখন জরুরি৷ ফলে এ বাবের প্রতিবাদে ভাল সাড়া মিলবে৷ পাশাপাশি এই পরিস্থিতিতে আর পাঁচটা কর্মক্ষেত্রের মতোই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের পাশে শ্রম দফতর চাইছে এআইআইটিইইউ। এজন্য শ্রম কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগও করা।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে একটি কনফারেন্স করে কর্মী সঙ্কোচনের কথাই জানিয়েছিল কগনিজেন্ট। সংস্থা সূত্রে খবর, এর ফলে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হবে। তবে প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনঃনিয়োগ করা হবে। বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই গোটা বিশ্ব থেকে প্রায় সাত হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে। কর্মী ছাঁটাই ছাড়াও ব্যবসার ধরনেও বেশ কিছু রদবদল আনতে চলেছে এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। এই রদবদলের ফলেও প্রায় ৬ হাজার কর্মী কাজ হারাতে চলেছেন বলে খবর।

গোটা দুনিয়ায় কগনিজেন্টের মোট কর্মীর সিংহভাগই রয়েছে ভারতে ৷ এদেশে এই সংস্থার কর্মরত রয়েছেন প্রায় দু’লক্ষ দক্ষ আইটি কর্মচারী। চেন্নাই, গুরগাঁও, কলকাতা, হায়দরাবাদ, কোয়েম্বাটোর, কোচি, পুনে এবং ম্যাঙ্গালোরে ‘সিটিএস’র কর্মীরা রয়েছেন। আশংকা করা হচ্ছে কর্তৃপক্ষের আগামী ছাঁটাই অভিযানে চেন্নাইয়ের পর সবচেয়ে বেশি কোপ পড়তে চলেছে কলকাতার ওপর।