স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভার্চুয়াল জনসভায় অমিত শাহ আগুন ঝরা ভাষণের সময়ই বামেদের বিক্ষোভ উত্তপ্ত হল সারা রাজ্য। পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা-সহ একাধিক দাবি সংবলিত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বামেরা।

এদিন রাজ্যের প্রত্যেকটা জেলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সেনাপতি অমিত শাহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় বাম কর্মী সমর্থকরা। শাহর কুশপুতুলও দাহ করে তারা। তবে এদিন বিক্ষোভকারীদের অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না। বজায় ছিল না শারীরিক দূরত্বও।

শাহর অনলাইন সভা চলাকালীনই রাজ্যের নানা জায়গায় বিক্ষোভ চলবে বলে সোমবারই জানিয়ে দিয়েছিলেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছিলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকেরা কোনও সাহায্য পেলেন না, কিন্তু শাহ তাঁদের ধৈর্যের অভাব দেখতে পেলেন! ‘ভার্চুয়াল র‌্যালি’ কোনও সমাধান নয়। বাস্তবে মানুষের সামনে দাঁড়ানোর সাহস ওঁদের নেই।”

সেলিমের তোপ, “অমিত শাহ যেখানকার সাংসদ, সেই আমেদাবাদে করোনা মৃত্যুর হার সর্বাধিক। এখন পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের ভোট রাজনীতি করতে, গুজরাটের বিধায়ক কেনাবেচা করতে সক্রিয় হয়েছেন। মানুষের সামনে যাওয়ার সাহস নেই, তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসভা করছেন।”

এদিন ভার্চুয়াল র‌্যালি থেকে দলের বঙ্গ ব্রিগেডকে পুরোদমে বিধানসভায় লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিয়েছেন অমিত শাহ।প্রথম ভার্চুয়াল পশ্চিমবঙ্গ জনসম্পর্ক যাত্রায় আগাগোড়া মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার বাংলার কৃষক, শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। বাংলার মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগটুকু পর্যন্ত পেতে দিচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “বাংলায় বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার ১ মিনিটের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে আয়ুষ্মান ভারত।”

অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেছেন, “ভারত সরকার প্রত্যেক কৃষককে ৬,০০০ টাকা করে দিতে তৈরি। কিন্তু কৃষকদের টাকা দিতে চাই তালিকা দিচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজনীতির সীমা থাকা উচিত।” তিনি এও বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সাইক্লোন বিধ্বস্ত কৃষকদের তালিকা শনিবার পাঠিয়ে দিলে সোমবার তাঁদের একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে কেন্দ্র।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব