কলকাতা: ক্ষমতা খুইয়ে এবার নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে শুরু করেছেন বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ জয়ন্ত রায়। ৩৪ বছর পর ২০১১ সালে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পালাবদল হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনের। তারপর থেকে রাজ্যের মসনদ সামলাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর পর নির্বাচনে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছিল বাম নেতৃত্ব। আহ্বানেও সারা দেয়নি বঙ্গবাসী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই বর্তেছে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব। নানাবিধ সমালোচনা সত্ত্বেও ফের রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন বাম নেতা জয়ন্ত রায়।

আত্মসমালোচনার প্রথমেই বামেদের দূরাবস্থার জন্য সিপিএমকে কাঠগড়ায় তুলেছেন জয়ন্ত বাবু। ২০১৬ নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য বাম-কংগ্রেস জোটকেই দায়ি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতের সাম্প্রদায়িকতা, দরিদ্রতা সমস্ত কিছুর মূল নায়ক হচ্ছে কংগ্রেস। সেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে যাওয়া। এটাকে কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না।” সিপিএম গোপনে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করে রাতারাতি ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল এবং রাজ্যের শতকরা ৭০ভাগ বামপন্থী মানুষ এই বিষয়টিকে ভালোভাবে মেনে নেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ জয়ন্ত রায়। দ্বিতীয়বার তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার কারণে মানুষের কাছে ঘাসফুল শিবিরের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এবং এই কারণেই ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস এই মুহূর্তে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে বলে মনে করেন রাজ্যসভার এই প্রাক্তন বাম সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, “স্পর্শকাতর বিষয়গুলিকে এজেন্ডা করে নির্বাচনে মানুষের কাছে পৌঁছেছিলেন মমতা। এর উদাহরণ হচ্ছে কন্যাশ্রী প্রকল্প বা গরীব ঘরের ছেলেমেয়েদের সরকার থেকে সাইকেল দেওয়া।” তিনি আরও বলেছেন, “সব থেকে বড় বিষয় হল খাদ্য নিরাপত্তা আইন। যেটা আমরা বামপন্থীরা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকেও কার্যকরী করতে পারিনি, সেটা মাত্র পাঁচ বছরে করতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জয়ললিতা পারলেও আমরা পারিনি, সেটা আমাদের ব্যর্থতা।” বামেদের এহেন ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছেন বলে মনে করেন প্রাক্তন বাম সাংসদ জয়ন্ত রায়।