সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ভোটবাক্সে কি হবে তা জানা নেই। তবে ভোটপ্রচারে সব দলের থেকেই কোথাও যেন একটু হলেও এগিয়ে থাকছে বামেরা। সোশ্যাল মাধ্যম থেকে শুরু করে মাঠে ঘাটে তাঁদের স্লোগান বেশ ভালোরকম সারা ফেলছে প্রত্যেকবার। শুরু হয়েছিল ব্রিগেড থেকে প্রথম টুম্পা তারপর ফ্ল্যাশ মবের ‘চলো ব্রিগেড চলো’। এবার আরও এক নতুন গানের সুরে প্রচার করতে শুরু করেছে বামফ্রন্ট। সেখানে তরুণ প্রার্থীদের ছবি দিয়ে গান তৈরি করা হয়েছে এবং বানানো হয়েছে ভোটের প্রচার ভিডিও। সেটিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল। এভাবেই নেমেছে বামেরা।

বাংলায় বিধানসভা ভোটের জন্য দুই দফার আপাতত তাঁদের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে বামফ্রন্ট। সংযুক্ত মোর্চায় তাঁদের দুই সঙ্গী কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। তাঁদেরকে আসন ছেড়ে দিয়ে যা বাকি রয়েছে তাতে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এবারের তালিকায় প্রচুর নতুন ও তুলনামূলক কম বয়সীদের মুখকে সুযোগ দিয়েছে বামফ্রন্ট। তাদের ছবিকে সঙ্গী করেই সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের ভোটে জেতানোর ডাক দেওয়া হয়েছে এই নয়া গানে। নাম ‘এটা দিন বদলের মোর্চা’। গানটি লিখেছে ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী, গানটি গেয়েছে সপ্তক দাস।

গানের লাইনগুলি কেমন? বলা হয়েছে , ‘এটা দিন বদলের মোর্চা, দল‌ বদলের নয়, এরা তোলাবাজদের টেনশন, আর চাল চোরেদের‌ ভয়। সকলের হাতে কাজ হবে, আর ফসলের ঠিক দাম, রাষ্ট্রীয় কোনো রেজিস্ট্রারেই, লিখতে হবে না নাম। ইস্কুলে যাবে সব্বাই, সব বাড়িতে ভাতের গন্ধ, এই বাংলায় দাঙ্গাবাজের, আনাগোনা হবে বন্ধ। আর কাকদ্বীপ থেকে ভেসে আসবেনা, কিশোরীর চিৎকার আর কামদুনি থেকে ভেসে আসবে না কিশোরীর চিৎকার। তাই সরকার চাই সংযুক্ত মোর্চার , সরকার চাই সংযুক্ত মোর্চার’

এদিকে বামফ্রন্টের প্রথম দফায় তালিকা ঘোষণায় যারা টিকিট পেয়েছিলেন তাঁরা হলেন , শালবনি: সুশান্ত ঘোষ , মেদিনীপুর:তরুণ কুমার ঘোষ, বিনপুর: দিবাকর হাঁসদা, বান্দোয়ান: সুশান্ত বেসরা , ডেবরা: প্রাণকৃষ্ণ মন্ডল, ঘাটাল: কমল দোলুই , কেশপুর:রামেশ্বর দোলুই , তালডাংরা: মনোরঞ্জন পাত্র , বড়জোড়া: সুজিত চক্রবর্তী, ওন্দা:তারাপদ চক্রবর্তী , ইন্দাস: নয়ন শীল , সোনামুখী: অজিত রায় ,জয়পুর: ধীরেন মাহাতো , মানবাজার: যামিনীকান্ত রায় , পারা:স্বপন বাউরী , ছাতনা: ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় , পটাশপুর: সৈকত গিরি , কাঁথি উত্তর: সুতনু মাইতি , খেজুরি: হিমাংশু দাস , ঝাড়গ্রাম: মধুজা সেন রায়, কেশিয়াড়ি:পুলিন বিহারী বাস্কে, খড়গপুর: শেখ সাদ্দাম আলি ,গড়বেতা: তপন ঘোষ, রানীবাঁধ: দেবলীনা হেমব্রম, পাঁশকুড়া পূর্ব: শেখ ইব্রাহিম আলি , পাঁশকুড়া পশ্চিম:চিত্তদাস ঠাকুর , নন্দকুমার:করুণাশঙ্কর ভৌমিক, গোসাবা: অনিল চন্দ্র মন্ডল , সাগর: সেখ মুকুলেশ্বর রহমান, তমলুক: গৌতম পন্ডা, কাঁথি দক্ষিণ: অনুরূপ পন্ডা , হলদিয়া: মণিকা কর ভৌমিক , চন্ডীপুর: আশীষ গুছাইত, নারায়ণগড়:তাপস ঘোষ।রামনগর: সব্যসাচী জানা, দাঁতন: শিশির পাত্র, নয়াগ্রাম: হরিপদ সোরেন, গোপীবল্লভপুর:প্রশান্ত দাস,

বামেদের দ্বিতীয় দফায় প্রার্থীতালিকাও ঘোষিত হয়েছে। শুরু হয়েছে প্রচার। টিকিট দেওয়া হয়েছে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বাম নেত্রী ঐশী ঘোষকে। তিনি লড়বেন জামুরিয়া থেকে। ‌পাশাপাশি বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে লড়বেন ফুয়াদ হালিম। টালিগঞ্জ থেকে লড়বেন দেবদূত ঘোষ ঠাকুর। শিলিগুড়ি থেকে লড়বেন অশোক ভট্টাচার্য। বাসন্তীতে সুভাষ নস্কর। রায়দিঘিতে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। জয়নগরে অপূর্ব প্রামানিক। হবিবপুরে ঠাকুর টুডু। কসবায় শতরূপ ঘোষ। সিঙ্গুরে সুজন ভট্টাচার্য। বালিগঞ্জে ফুয়াদ হালিম। বাগনানে বসির আহমেদ , মাথাভাঙায় অশোক বর্মন।তপনে রঘু ওঁরাও। বালিগঞ্জ ফুয়াদ হালিম।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.