কলকাতা: প্রথমে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তসলিমা নাসরিন। আশ্রয় নেন কলকাতায়। তারপর কলকাতা থেকেও বিতাড়িত হন। দ্বিখণ্ডিত বই বিতর্কের জেরেই আর বাংলায় আসতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। মনে প্রাণে কলকাতাকে ভালোবাসার কথা বারবার বলেছেন তিনি। তাই পশ্চিমবঙ্গে থেকে নির্বাসনের ক্ষোভ আজও আছে তাঁর মনে। ফের একবার তৎকালীন বাম শাসকের বিরুদ্ধে সরব হলেন তসলিমা।

সম্প্রতি ফেসবুকে এটি স্টেটাসে সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তিনি নিজে ডানপন্থী ছিলেন না কোনোদিনই। বরাবরই বাম ঘেঁষা চিন্তাভাবনা ছিল তাঁর। অথচ বামপন্থীরাই তাঁকে বের করে দিয়েছে বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসুর সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন তসলিমা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, একসময় হঠাৎই তাঁর বই নিষিদ্ধ করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর মুখ দেখা বন্ধ করে দেন। দু’বছর পর কলকাতা হাইকোর্ট বইটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘন ঘন পুলিশের ফোন গিয়েছিল তাঁর কাছে। এরপর তাঁকে রাজ্য ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়। পরে চার মাস তিনি গৃহবন্দি থাকার পর ‘তসলিমা গো ব্যাক’ লিখে প্রতিবাদ হয় শহরের রাস্তায়।

২০০৭-এর ৭ নভেম্বরের কথা মনে করিয়ে তসলিমা লিখেছে, সেদিন তাঁকে এক অচেনা বাড়িতে রেখে এসেছিল পুলিশ। বলা হয়েছিল, সিদ্দিকুল্লা লোকজন নিয়ে আসছে। বলা হয়েছিল, জঙ্গিরা তাঁকে মেরে ফেলতে পারে। এভাবেই ভয় দেখিয়ে বাম রাজনীতিকরা তাঁকে রাজ্য ছাড়া করতে চেয়েছিলেন বলেই অভিযোগ তসলিমার। লেখিকার দাবি, তিনি যদি জনপ্রিয় কেউ না হতেন, তাহলে তাঁকে সেদিন মেরেই ফেলত বাম সরকার। অনেক চেষ্টা করেও তিনি রাজ্য আ ছাড়ায় তাঁকে একটি ওয়ানওয়ে টিকিট দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এমনকি দিল্লি যাওয়ার পর তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তসলিমা। এইমসের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নিয়ে গিয়ে তাঁকে কোনোক্রমে বাঁচানো হয়। ২০০৮-এ ভারত ছাড়েন বাধ্য হয়ে। ঘটনার ১১-১২ বছর পর তসলিমা প্রশ্ন তুলেছেন কেন তাঁর সঙ্গে এমন করেছিলেন বামপন্থীরা।

তসলিমার প্রশ্ন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুসলমানের ভোট পাওয়ার জন্যই কী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বুদ্ধবাবুরা? হাইকোর্ট দ্বিখণ্ডিত-র নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছিল বলে এমন সিদ্ধান্ত কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন তসলিমা। বিখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তসলিমার দাবি, তিনি হয়ত বুদ্ধবাবুর কাছে রাজ্য ছাড়া করার আর্জি জানিয়েছিলে। কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল যে এবার তসলিমা পশ্চিমবঙ্গের মহাপুরুষদের মুখোশ খুলবেন।