স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ৪২-এ ৪২-এর আশা অতীত৷ বাস্তব বলছে, ২১শের ভোটে তৃণমূলের জয়ই অনিশ্চিৎ৷ এই অবস্থায় গেরুয়া পালের হাওয়া কাড়তে রাজ্যে বাম কংগ্রেসকে যৌথভাবে লড়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ বিঘানসভায় তৃণমূলের পথ সুগম করতেই মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের এই ‘আর্জি’ বলে মনে করছে আলিমুদ্দিন ও বিধান ভবনের কর্তারা৷

লোকসভা ভোটে বিপর্যয়৷ জোড়াফুল ছেড়ে বিধায়ক, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্যরা এখন পদ্মমুখী৷ ঠেলার নাম বিজেপি৷ বুঝছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ এই পরিস্থিতিতে ‘চির শত্রু’ বাম ও প্রাক্তন জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে কাছে টানার বার্তা দিলেন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: বিজেপিকে রুখতে ‘চিরশত্রু’ সিপিএম ও কংগ্রেসকে কাছে টানার বার্তা মমতার

বুধবার বিধানসভা অধিবেশনে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানেই তিনি বিরোধী বাম ও কংগ্রেস বিধায়কদের যৌথভাবে লড়ার আহ্বান জানান৷ তিনি বলেন ‘‘সিপিএম-কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। আমার ভয় হচ্ছে, ওরা (বিজেপি) সংবিধান না বদলে দেয়। আমাদের যৌথভাবে আসা দরকার৷’’ বিরোধী দলনেতা মান্নান অভিযোগ করেন হাত শিবিরের পার্টি অফিস দখল করে নিচ্ছে তৃণমূল৷ জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাকে তালিকা দিন৷’’ বিরোধী এই দুই দলের কাছে আর্জি, ‘‘আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আমরা বিষয়টা দেখছি৷’’

মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে অবশ্য সাড়া দিতে নারাজ বিরোধী বাম কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ বিধানসভায় বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিজেপিকে বাড়িয়েছে তৃণমূলই। তৃণমূলকে দিয়ে বিজেপিকে ঠেকানো সম্ভব নয়৷’’ সিপিএমের লিটব্যুরো সদস্য মহমেমদ সেলিম বলেন, ‘‘উনি ক’দিন আগে বলছিলেন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি একসঙ্গে লড়ছে। উনি প্রথমে বলুন, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ভোটের সময় মিথ্যাচার করেছি।’’

শাসক দলের উদ্দেশ্যে তাঁর পালটা চাপ, ‘‘প্রশাসনকে ব্যবহার করে লুটপাঠের যাঁরা প্রতিবাদ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন।সেই সব মামলা আগে প্রত্যাহার করুন। গ্রেফতার হওয়া রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি দিন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, সেইসব অন্যায় আগে স্বীকার করতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে৷’’

আরও পড়ুন: ‘ছেলে খারাপ পথে চলে গিয়েছে’ ব্রাত্য সম্পর্কে বিকাশ

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘‘তিনি কখনও বলছেন কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করে দেবেন। আবার কখনও বলছেন, কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। কোনটা সত্যি আগে সেটা ঠিক করুন।’’
একদা ‘বাম দুর্গ’ বাংলায় আসনের নিরীখে বামেরাই নিঃশ্চিহ্ন৷ কংগ্রেস কোনও মতে ২টি আসন ধরে রেখেছে৷ শতাঁসের বিচারেও এই দুই দল পেয়েছে যথাক্রমে ৭ ও ৫ শতাংশ ভোট৷ ভোটের বিশ্লেষণেই স্পষ্ট, বাম ভোট পড়েছে ‘রাম’ শিবিরে৷ তৃণমূলের ভোট বাড়লেও কমেছে আসন সংখ্যা৷

অঙ্ক বলছে লোকসভা ভোটের ফলের নিরীখে রাজ্যের ১৩০টি মতো আসনে এগিয়ে বিজেপি৷ আগামী বিধানসভায় ভোট হতে পারে মেরুকৃত৷ যা ২১শে তৃণমূলের কঠিন চ্যালেঞ্জ বিজেপি৷ তাই জোড়াফুলের নজরে বিভক্ত বিরোধী ভোট৷ তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘দর’ বেড়েছে চির শত্রু সিপিএম ও বাংলায় সাইবোর্ড হতে চলা কংগ্রেসের৷