বেইরুট: করোনাভাইরাসের হামলায় তেমন মৃত্যু হয়নি। এতে স্বস্তি ছিল লেবানন সরকারের। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাজধানী বেইরুটের বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ ভাণ্ডারে ভায়াবহ বিস্ফোরণের পর সরকার পতনের মুখে পড়তে চলেছে।

সরকারি গাফিলতিতে বেইরুটে এই দুর্ঘটনার পর থেকে জনগণ ক্ষিপ্ত। সপ্তাহ শেষে বিক্ষোভ এমন আকার নিয়েছে যে শনিবার সকাল পর্যন্ত একটার পর একটা মন্ত্রকে ঢুকে ক্ষিপ্ত জনগণ ভাঙচুর চালাচ্ছেন।

আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্সের খবর, লেবাননের পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাময়। সরকার পড়ে যেতে পারে এমনই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিক্ষোভ রুখতে পুলিশের গুলিতে জখম অনেকে। প্রতিবাদের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাংসদরা পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন।

সিএনএন ও বিবিসি জানাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউনের ছবি পুড়িয়ে দেয়। প্রথমে বিদেশমন্ত্রকে ঢুকে পড়ে বিক্ষুব্ধরা। শুরু হয় ভাঙচুর।এরপর বিভিন্ন মন্ত্রক আক্রান্ত হয়। বিক্ষোভকারীরা দেশের সব মন্ত্রক দখল করার হুমকি দিচ্ছে।

মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের তীব্রতা হিরোশিমায় পরমাণু হামলার ১০ ভাগের ১ ভাগ। এমনই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাষ্ট্র। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের তীব্রতা এমনই যে বেইরুট থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরের সাইপ্রাস দ্বীপরাষ্ট্রে কম্পন ও শব্দ শোনা গিয়েছিল।

বন্দরের সরকারি কর্মীদের গাফিলতিতে বিস্ফোরণ হয়েছে এমন দাবি করে লেবানন সরকার তাদের গৃহবন্দি করার নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে জারি হয় দু’সপ্তাহের জরুরি অবস্থা। তার পরেই বিক্ষোভ ছড়িয়েছে।

গাল্ফ নিউজের খবর, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। বেইরুটের শহিদ চত্বরে গুলির শব্দ শোনা গেছে।

বেইরুট বন্দর এলাকায় একটি রাসায়নিক পদার্থের গোডাউনে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ জখম। প্রায় ৬ বছর ধরে বন্দরে মজুদ করা হয়েছিল।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা