বেহরুট: বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত লেবাননের রাজধানী বেহরুটে বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের রীতিমত সংঘর্ষ হয়। সংসদ ভবনের সামনে ওই বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়। মঙ্গলবার বেহরুটে এমন বিস্ফোরণের জন্য সরকারের অবহেলাকেই বিক্ষোভকারীরা দায়ী করছে। আর তারই জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল বিক্ষোভকারীরা। বিস্ফোরণের পর লেবানন আর্থিক দিক থেকেও চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে।

সেদিনের বিস্ফোরণে অন্তত ১৩৭ জনের মৃত্যু এবং প্রায় পাঁচ হাজার জন আহত হয়েছে। তাছাড়া ওই বিস্ফোরণের ফলে বেহরুট শহরের বেশ কিছু এলাকা একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ওই বিস্ফোরণের ঘটনার পরে সেখানকার বহু মানুষের এখনোও কোনও খোঁজ নেই। আর একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বন্দর সংলগ্ন দেশের প্রধান শস্য ভান্ডারটি।

সরকারি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ওই শহরে বন্দরের কাছে প্রায় ‌২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বেশ কয়েক বছর ধরে মজুদ ছিল। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ১৬ জনকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনার পরে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা এবং এক সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। তাছাড়া জর্ডনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত শুধু পদত্যাগ করেননি , দেশে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত বিভিন্ন সূত্রে খবর, ২০১৩ সালে একটি জাহাজে করে এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বেহরুটের বন্দরে ঢুকেছিল। মালবাহী জাহাজ এমভি রোসাস সম পরিমাণ রাসায়নিক- অর্থাৎ ২,৭৫০টন রাসায়নিক নিয়ে ২০১৩ সালে বেহরুটের বন্দরে নোঙর ফেলেছিল।জর্জিয়া থেকে জাহাজটি যাচ্ছিল মোজাম্বিতে এবং কারিগরিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি এই বন্দরে নোঙর ফেলে।

রোসাস জাহাজটি পরিদর্শনের পর সেটিকে ওই বন্দর থেকে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ কিছুদিন পরেই ওই জাহাজের মালিক জাহাজটি সেখানে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে একটি ওয়েবসাইট সূত্রে খবর। তারপর আদালতের নির্দেশে ওই জাহাজের মাল পত্র ১২ নম্বর গুদামে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ওই গুদামে মজুত রাসায়নিক নষ্ট করে ফেলার বা বিক্রি করে দেবার কথা ছিল।

বন্দরের প্রধান এবং কাস্টমস বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, তারা বিচার বিভাগের কাছে একাধিকবার এই রাসায়নিক, বিদেশে রফতানি করার বা বন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল। বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার হাসান কোয়ারতেমের বক্তব্য, মজুদ করা মাল পত্র বিপদজনক জানলেও, সেটা যে এই মাত্রায় বিপদজনক তা তারা জানতেন না।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও