নয়াদিল্লি: হিংসার আগুনে জ্বলছে আফ্রিকার লিবিয়া৷ এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে লিবিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সেদেশ ছাড়ার নির্দেশ দিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ এদিন এক ট্যুইট বার্তায় হিংসাজীর্ণ লিবিয়াবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন বিদেশমন্ত্রী৷

ট্যুইট বার্তায় সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, লিবিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে৷ এই অবস্থায় লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আটকে পড়েছেন প্রায় ৫০০ ভারতীয়৷ পর্যটকদেরও সেখানে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে৷ বিমান চলাচলও নিয়ন্ত্রিত৷ লিবিয়ায় বসবাসকারীরা তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷ বলুন ওই দেশ ছাড়তে৷ দেরি হয়ে গেলে আমাদের পক্ষে আর তাদের ফেরানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে৷

২০১১-তে মুয়াম্মর গদ্দাফির মৃত্যুর পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা জারি রয়েছে৷ প্রেসিডেন্ট গদ্দাফির মৃত্যুর পর লিবিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সরকার গড়ে ওঠে। এই সরকারের পেছনে ছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের সমর্থন৷ কিন্তু সরাকারের প্রধানমন্ত্রী ফৈয়জ অল সিরাজকে মেনে নিতে পারেনি ইসলাম বিরোধী হাফতার৷ মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সহ বেশ কয়েকটি দেশ হাফতারকে মদত দিতে তাকে৷ পূর্ব লিবিয়ায় হাফতারের ঘাঁটি শক্তিশালী হতে থাকে৷

লিবিয়া থেকে নৈরাজ্য মুক্ত করতে সক্রিয় হয় হাফতাব৷ রাজধানী ত্রিপোলি দখলের ডাক দেন তিনি৷ রাষ্ট্রপুঞ্জের সমর্থনকারী লিবিয়া সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফৈয়জ অল সিরাজ দাবি করেন হাফতার সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছে৷ কিন্তু তা সম্ভব নয়৷ হাফতারের ত্রিপোলি দখলের চেষ্টায় লিবিয়া হিংসাজীর্ণ৷ ভেস্তে গিয়েছে উভয় শিবিরের শান্তি আলোচনা৷ সরকার ও বিরোধী সংঘর্ষে নিহত ২০০ বেশি মানুষ৷ চলছে আকাশ পথেও হামলা৷ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে৷

ভারতের বিদেশমন্ত্রক এর আগে লিবিয়ায় কর্মরত ১৫ ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনীকে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছিল৷ এবার বিদেশমন্ত্রী ট্যুইট করে সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও ফিরে আসার বার্তা দিলেন৷