প্রতীতি ঘোষ, হাবড়া: লক্ষী পুজো উপলক্ষে প্রাচীন রীতি মেনে অন্তত ৫০০ বছর ধরে চলে আসছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির বহনকারী এক অভিনব মেলার। হাবড়া থানার বাঘাডাঙা এলাকার পাড়ুইপাড়ার হিন্দু ও মুসলিম মিলে প্রায় তিনশোর বেশি পরিবারের সদস্যরা এক সঙ্গে লক্ষীপুজো উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই মেলাতে অংশ গ্রহন করেন।

দুর্গা নয়, লক্ষ্মীপুজোই হাবড়ার পারুই পাড়ার প্রধান উৎসব। লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করেই মেতে ওঠেন গ্রামের মোমিনুল, প্রশান্ত,কানন, কমলারা। লক্ষীপুজো ঘিরে সাতদিন মেলা চলে। হিন্দু ও মুসলিম উভয়ে মিলেই এই মেলার আয়োজনও করেন। এলাকার মানুষ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল এই লক্ষ্মীপুজো। গ্রামের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দাবি, পাঁচশো বছর পুরনো তো হবেই এই লক্ষ্মীপুজো।

রবিবার লক্ষীপুজো র দিন থেকে এবারও শুরু হয়েছে মেলা। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ মেলা দেখতে ভিড় করেন। স্থানীয় লোকজনই পুজো ও মেলার আয়োজক। বাঁধা হয়েছে মঞ্চ। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। এখানে দুটি স্থায়ী লক্ষ্মী মন্দির রয়েছে। অতীতে একটি মন্দির ছিল মাটি ও খড়ের। কিন্তু পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় একই জায়গায় দুটো মন্দির করে চলছে পুজো। একইসঙ্গে এলাকার বাসিন্দারা শোভাযাত্রা সহকারে ঠাকুর নিয়ে আসে মণ্ডপে। দুটো মন্দির আলাদা আলাদা হলেও অনুষ্ঠান হয় একই মঞ্চে। মন্দিরের পাশে রয়েছে প্রাচীন একটি তেঁতুলগাছ।

গ্রামের মানুষ জানালেন, এলাকার মানুষের কাছে প্রধান উৎসব লক্ষ্মীপুজো। এই সময় সকলে নতুন জামা কাপড় কেনেন। আত্মীয় স্বজনেরা এখানে বেড়াতে আসেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রশান্ত পাড়ুই বলেন , ‘‘আমার পূর্ব পুরুষেরাও বলে যেতে পারেননি কবে থেকে মেলা শুরু হয়েছিল। চল্লিশ বছর ধরে সক্রিয় ভাবে মেলার আয়োজন করেছি। এখন বর্তমান প্রজন্মের হাতে ছেড়ে দিয়েছি।’’ দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে এসে মানসিক করেন।’’

কর্মসূত্রে যাঁরা অন্যত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন তাঁরাও বছরের এই সময়ে বাড়ি ফেরেন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোতে ওই গ্রামের মানুষ সে ভাবে সাড়া দেন না। নতুন পোশাক কেনার রেওয়াজও রয়েছে লক্ষ্মীপুজোতে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় চলে যাত্রা, বাউল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মমিনুল হকের মতো এলাকার অনেক সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। মেলা যেন হয়ে ওঠে সম্প্রীতির এক মিলনক্ষেত্র । এলাকার মহিলারা জানালো বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এতটাই ভর্তি থাকে যে অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ সেভাবে কারো কারো মেলে না ।