স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: সবকুল হারিয়ে এবার কংগ্রেসে তরী নিয়ে ভিড়তে চলেছেন একদা সিপিএমের নেতা ও সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ। নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনীতিতে ক্রমেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা এই নেতা বিজেপি ছেড়ে ভিড়তে চেয়ে ছিলেন শাসকদলে। তৃণমূল নেত্রী গ্রাহ্যই করেননি তাঁর সেই আবেদন। অস্তিত্ব রক্ষায় তিনি কংগ্রেসে যাচ্ছেন বলে চর্চা চলছিল।

সেই জল্পনায় অবশেষে জল ঢাললেন খোদ লক্ষ্মণ শেঠ নিজেই। তিনি নিজেই জানান কংগ্রেসে যোগদান এখন সময়ের অপেক্ষা৷ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিধান ভবনে গিয়ে সদলে যোগ দেবেন কংগ্রেসে, এমনটাই kolkata24x7-কে জানিয়েছেন হলদিয়ার একদা বেতাজ বাদশা।

একজন রাজনীতি বিদের রাজনীতি ছাড়া সময় কাটতে পারে না। তাই তিনি জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করার জন্য আবেদন জানান। সেই আবেদনে সাড়া মিলেছে বলে জানান প্রাক্তন সিপিএমের সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ। তবে তিনি কবে দলে যোগদান করছেন তা এখনও প্রকাশ করতে চাইছেন না। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে চলতি সপ্তাহের ৪ কিংবা ৫ তারিখে কলকাতা বিধান ভবনে তিনি কংগ্রেসে যোগদান করবেন।

তাঁর হাতে দলিয় পতাকা তুলে দেবেন জাতীয় কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব প্রাপ্ত অসমের সাংসদ গৌরব গগই। প্রাক্তন সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠ কংগ্রেসে যোগদানের বিষয় নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ঘোলা জল কি পরিষ্কার হতে চলেছে? সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

লক্ষ্মণ শেঠ। রাজনৈতিক জগতের একটি পরিচিত মুখ। বাম সংগঠন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। বাম নেতা তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী সুকুমার সেনগুপ্তের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ তাঁর। ৭২ সালে প্রথম সুতাহাটা বিধানসভার প্রার্থী হন তিনি। কিন্তু সেই বছর হেরে যান। তারপর ৯৮ সাল থেকে সুতাহাটা বিধানসভায় টানা তিন বারের বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হন। ধীরে ধীরে তার কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। ৯৮ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তমলুক লোকসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন। বামেদের অন্যতম সাংসদ ও হলদিয়া ‘বাদসা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

সাংসদ থাকাকালীন নন্দীগ্রামে চাষিদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে যার ভূমিকা ছিল প্রথম সারিতে সেই লক্ষ্মণ শেঠকে মানুষ ভুলতে থাকে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে একাধিক অভিযোগের কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন তিনি। দলের বিরুদ্ধে নানা কুরুচিকর কথাবার্তা বলার কারণে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। সিপিএম থেকে বহিষ্কার করার পর নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। সেই দলের নাম দেন ‘ভারত নির্মাণ পার্টি’। নতুন দল নিয়ে কয়েকমাস থাকার পর আর টানতে না পেরে তিনি তার দলবল নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন।

বিজেপিতে কিছুদিন থাকার পর দলের মধ্যে সেইভাবে দায়িত্ব না পাওয়ার অভিযোগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ তারিখে তার অনুগামীদের নিয়ে বিজেপি দল ছাড়েন। বিজেপি ছাড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে জল ঘোলা হতে থাকে। তিনি শাসকদল তৃণমূলে যোগদান করার কথা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তৃণমূল তাঁকে দলে নেয়নি। নানাভাবে চেষ্টা করলেও তৃণমূলে তার ঠাঁই হয়নি।

প্রাক্তন সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠ কংগ্রেসে যোগদানের বিষয় নিয়ে স্থানীয় তমলুক লোকসভার সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী জানান, লক্ষ্মণ এখন ব্রাত্য। সে কোন দলে গেলো তা নিয়ে ভাববার কিছু নেই। তবে কংগ্রেস যদি ওকে নেয়, তাহলে জাতীয় দল কংগ্রেসের এই রাজ্যে যেটুকু সম্মান ছিল তা হারাতে বসবে।

বিজেপির জেলা সভাপতি প্রদীপ দাস বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক জীবনে এই ধরনে মানুষ দেখিনি। তিনি একবার এই দলে এবার ওই দলে যাচ্ছেন। এখন তিনি কংগ্রেসে যাবেন কি এসইউসিতে যাবেন সে বিষয় নিয়ে আমরা ভাবছি না। উনি বিভ্রান্তিতে ভুগছেন। আমাদের দলে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করেননি। করলে ভালো করতেন।’