কলকাতাঃ  সিপিএমের সংসারে দীর্ঘদিন রসেবসেই ছিলেন। কিন্তু বিজেপিতে গিয়ে সেভাবে সাংসারিক সুখ পাননি এক সময়ের মেদিনীপুরের ‘ডন’ লক্ষণ শেঠ। বাধ্য হয়েই দল ছেড়েছিলেন। এবার তিনি কংগ্রেসের পরিবারে নাম লেখাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন লক্ষ্মণ শেঠ। ইতিমধ্যে তাঁর যোগদানের বিষয়ে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেও পাকাপাকিভাবে কথা হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই কথাবার্তা শেষে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই লক্ষ্মণের কংগ্রেসে যোগদানের বিষয়টি পাকা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, কংগ্রেসে যোগদানের পর লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের টিকিটে লড়বেন বলে খবর।

২০১৪ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ২০১৬-তে বিজেপিতে যোগ দেন একসময়ের সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা লক্ষণ শেঠ। বিজেপিতে সেভাবে জায়গা না পেয়ে ২০১৮-তে দল ছেড়ে দেন। তারপর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু নন্দীগ্রাম আন্দোলনে যাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-শুভেন্দু অধিকারীরা পায়ের তলায় জমি পেয়েছেন, তাঁকে দলে নিতে চায়নি তৃণমূল। অগত্যা, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসার চেষ্টা শুরু করেন তিনি।

সূত্রের খবর, সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস হওয়ার ক’দিন পরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গিয়েছিলেন লক্ষণ শেঠ। তারপর থেকে বেশ কয়েকধাপ কথাবার্তা শুরু হয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে। লক্ষণ শেঠ নিজেও সে কথা স্বীকার করে ছিলেন। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলে ছিলেন, কথা হয়েছে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। ফলে সেই সময় থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে কংগ্রেসে লক্ষ্মণ শেঠের যোগদানের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে বলে বিধান ভবন সূত্রে খবর। আজ বুধবার নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা। সেখানেই লক্ষ্মণ শেঠের দলে যোগদানের সিদ্ধান্তে শিলমোহর দেওয়া হয়।

মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চাপে ফেলতে তার পুরনো রাজনৈতিক শত্রুকে যে কংগ্রেস অক্সিজেন দিতে তৈরি তা বিধানভবনের এক কর্তার কথায় স্পষ্ট ছিল। কারণ সেই কর্তা আগেই kolkata24x7-কে জানিয়ে ছিলেন,”কথায় আছে শত্রুর শত্রু আমার মিত্র। শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে মালদহ -মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের ঘর ভাঙাচ্ছে ওর জন্য লক্ষণ শেঠের মতোই লোকের দরকার।” চলতি মাসে বামফ্রন্ট সরকারের এক মন্ত্রী আব্দুস সাত্তারকে দলে টেনেছে প্রদেশ কংগ্রেস। লাইনে রয়েছেন আরও এক সিপিএম নেতা। কংগ্রেস বলছে, এত কিছুই নয়। পিকচার অভি বাকি হ্যায়!