স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আদালতে অভিযোগের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। কিন্তু অভিযোগে কে দোষী , কেই বা নির্দোষ সেটা ঠিক করার লোক নেই। এমনই অবস্থা হাইকোর্টের।

অবাক করার মতো হলেও এটাই কঠিন বাস্তব। বিচারপতির অভাবে ভুগছে রাজ্যের শীর্ষ আদালত। অগত্যা কর্মবিরতির পথে অ্যাসোসিয়েশন।

আদালতে একবার একটি কেস ওঠা মানে সেই কেস চলতেই থাকে। তার উপর যদি বিচারপতি না থাকে তাহলে বিচারব্যবস্থার বা বিচারের জন্য যারা দিনের পর দিন বসে রয়েছেন তাঁদের কি অবস্থা হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবস্থাইই এখন হাইকোর্টের। সিঙ্গেল বেঞ্চ এবং ডিভিশন বেঞ্চ মিলিয়ে এজলাস সংখ্যা ,৩৮ টি । বিচারপতির সংখ্যা ২৭ , কি হবে হাইকোর্টের সারে ২লক্ষ মামলার ভবিষ্যৎ।

রাজ্যের শীর্ষ আদালত বিচারপতি নিয়োগের প্রহর গুনছে মামলাকারী থেকে আইনজীবীরা। তাই বিচারপতি শূন্যপদ পূরণের দাবিতে হাইকোর্টের তিনটি বৃহত্তর আইনজীবী সংগঠন (বার এ্যাসশিয়েশান, ইন কর্পোরেট ল সোসাইটি এবং ব্যারিস্টার বার ) বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছেন না।

বার এ্যাসোসিয়েশান সভাপতি উত্তম মজুমদার জানিয়েছেন, “১৯৯৭ সালের পর থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বিচারপতি সংখ্যায় কম নিয়েই কাজ় করছিল রাজ্যের শীর্ষ আদালত। রাজ্যের বিভিন্ন ট্রাইবুনাল গুলিও বিচারপতির অভাবে ধুঁকছে।”উত্তমবাবুর আরও বলেন,“রাস্ট্রপতি , কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী , রাজ্যপাল এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দিয়েও উত্তর না মেলায় বৃহৎতর আন্দোলনের সিদ্বান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”

আগামী সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ শে ফেব্রয়ারি ৫ দিনে লাগাতারভাবে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা। কারণ গত তিন বছর ধরে হাইকোর্টে কোন স্থায়ী কোন প্রধানবিচারপতি নেই।

সুপ্রিমকোর্টে কলকাতা হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি নেই যিনি হাইকোর্টের হয়ে বলবেন। গত ১৭ ই জানুয়ারি একমাসের সময়সীমা দিয়ে ছিলেন কেন্দ্রকে। কিন্তু সেই ডেড লাইন পেরিয়ে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি। তাই এই সিদ্বান্তকে শীলমোহর দিয়েছেন ১০ হাজার আইনজীবী।

প্রাক্তন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল তথা বিশিস্ট আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র আবার এর বিপক্ষে। তিনি বলেন,“আইনজীবীদের কর্মবিরতিকে আমি সমর্থন করিনা। কিন্তু যখন সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের সমস্যাটাকেই আমি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

বিচারপতি পিনাকি চন্দ্র ঘোষ এবং বিচারপতি রুমা পাল ছাড়া হাইকোর্ট থেকে কোন বিচারপতি সুপ্রিমকোর্ট জাননি। এদিকে প্রতিদিন বাড়ছে মামলার পাহাড় । অথচ কেন্দ্রের কোন হেলদোল নেই। যদিও বারের এই সিদ্বান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন তৃণমূলের আইনজীবী সংগঠন । আইনজীবী বনাম আইনজীবী লড়াইয়ের আদতে সাধারণ মানুষ কতটা সুফল পাবেন তা আগামী ভবিষ্যতই বলবে।