স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে উত্তরবঙ্গের মানুষেরা সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে আন্দোলন করে এসেছে৷ কিন্তু সেই দাবি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। সোমবার জলপাইগুড়িতে এরকম কথাই বললেন রাজ্যের আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক।

মন্ত্রী এদিন রাতে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে তৃণমূলের ধরনা মঞ্চে আসেন। দলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী এদিন মন্ত্রীকে বলেন, ‘দলের সব সংগঠন সহ বিভিন্ন অংশের মানুষেরা আমাদের এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। দ্রুত এই বিষয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাঁর কাছে এদিন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি নেতা অমিত শা-র কার্টুন তুলে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানার জন্যই জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। অবিলম্বে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে।’ আইন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার পরেও কেন্দ্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজও জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ চালু করা যায়নি।’

রবিবার সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে তৃণমূলের ধরনা মঞ্চে হাজির ছিলেন সব গোষ্ঠীর নেতারাই। রবিবার এই মঞ্চে দলের প্রাক্তন সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী, বর্তমান সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, যুব তৃণমূল সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক খগেশ্বর রায়, সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই ছবি অনেকদিন পর দেখা গেল বলে দাবি দলীয় কর্মীদের৷

সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে তৃণমূলের আন্দোলনের সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর দাবি, “এই আন্দোলন এখন আর শুধুমাত্র জলপাইগুড়ি জেলার আন্দোলন নয়৷ এই আন্দোলন এখন পাহাড় তরাই ডুয়ার্স সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক পথেই আমাদের এই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করব। বিজেপি যদি মনে করে সার্কিট বেঞ্চের অনুমোদন দিলে তৃণমূল লাভবান হবে তা হলে বিজেপি ভুল করছে। এই দাবির সাথে জলপাইগুড়ির আপামর মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। দ্রুত সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে”৷