পুরুলিয়া: লেভেল ক্রসিং থাকা সত্ত্বেও অনেক সময়েই গেটের নীচ দিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা৷ কখনও আবার নিজেদের সুবিধার্থেই রেলের বসানো খুঁটি উপড়ে নিচ্ছেন স্থানীয় মানুষ৷কোথাও গায়ের জোরে বন্ধ গেট খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে রেলের প্রহরীদের৷ ফলে রেলপথে বাড়ছে বিপদ৷ দুর্ঘটনা ঘটছে একের পর এক৷
রেলপথের বিপদ কমাতে নজরদারির জন্য এবার পুরুলিয়ার আদ্রা ডিভিশনে দুর্ঘটনাপ্রবণ ১৬টি লেভেল ক্রসিং-এ সিসিটিভি বসাতে উদ্যোগী হল রেল৷ ইতিমধ্যে পুরুলিয়ার বলরামপুরের রাঙাডি, বাঁকুড়ার গোদাপিয়াশাল, পিড়ারডোবা, সাঁতুড়ির মধুকুন্ডা, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের ভাগা, খানুডি, লয়াবাদে সিসিটিভি বসানোও হয়ে গিয়েছে৷
আইনানুযায়ী, লেভেল ক্রসিং-এর গেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখান দিয়ে কেউ যাতায়াত করতে গিয়ে ধরা পড়লে সেই ব্যক্তির তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে৷ রেলের সুরক্ষায় বসানো কোনও খুঁটি বা গেট ভাঙলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে দোষীর৷ আর যদি কেউ জোর করে গেট খুলতে বাধ্য করান, তা হলে তাঁর জেল-জরিমানা দুই শাস্তিরই বিধান আছে৷ এতদিন বেআইনিভাবে লেভেল ক্রসিং ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা যেত না৷ সিসিটিভি থাকায়, সে রকম ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে৷ দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া গেলে, লোকে বেআইনি কাজ করতে ভয় পাবে৷
তাছাড়া, শুধু রেল গেট বন্ধ থাকা অবস্থায় লোকজনের যাতায়াতই নয়, পুরুলিয়ার বেশ কিছু এলাকা হাতির করিডর হিসাবে চিহ্নিত৷ সিসিটিভি-তে নজরদারির মাধ্যমে হাতি-ট্রেন সংঘর্ষও এড়ানো যাবে বলেও আশাবাদী রেল৷

Comments are closed.