হাসি মানেই যে সবসময় খুশিতে থাকতে পারে না মানুষ সেই প্রমাণ বিশ্ব পেয়েছিল ১৯৬২ সালে। মহামারীর আকার ধারণ করেছিল একটি সাধারণ হাসি। অদ্ভুত হলো এই হাসির চোটেই মারা যাচ্ছিল মানুষ। তানজানিয়ার কাশাশা গ্রাম থেকে এই রোগ ছড়িয়ে যায়।

পরিস্থিতি এমনই তৈরি হয়েছিল যে সামনের জনকে হাসতে দেখে উপস্থিত সবাই হাসতে থাকতো ও শেষে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তো। ‘টানগানইকা লাফটার এপিডেমিক’ নামেই এটি পরিচিত হয়। তানজানিয়ার আগে নাম ছিল টানগানইকা। তার থেকেই এই মহামারীর এমন নাম দেওয়া হয়।

১৯৬২ সালের ৩১ জানুয়ারি কাশাশার একটি বোর্ডিং স্কুলের তিন ছাত্রীর মধ্যে প্রথম এই অদ্ভুত রোগ দেখা যায়। তারা বিনা কারণে হাসতে শুরু করে। তাদের হাস্তে দেখে স্কুলের বাকি পড়ুয়ারা হাসতে শুরু করে ও দ্রুত তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ।

আরো পোস্ট- সন্দেহপ্রবণ মানুষেরা দীর্ঘজীবী হন না!

স্কুলের ৯৫ জন পড়ুয়া যাদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে তারা সকলেই সংক্রামিত হয়ে পড়ে এই রোগে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে বা অন্যান্য শিক্ষক এবং কর্মীরা এই রোগ থেকে বেঁচে যায়। স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানুয়ারিতে শুরু হওয়া রোগটিতে ৪-৫ মাসের মধ্যে ২১৭ জন আক্রান্ত হন। পাশের গ্রাম বুকোবার কাছে আরও একটি স্কুলে এমনটা শুরু হয়। আক্রান্তরা টানা ১৬ দিন ধরে শুধু হাসত। ১৮ মাস চলার পর আর কারও মধ্যে অকারণে হাসির বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু তখন অন্য এক সমস্যা শুরু হয়, অন্য এক লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। আচমকা জ্ঞান হারানো, শ্বাসকষ্ট, শরীরে র‌্যাশ হওয়া, হঠাত্ হঠাত্ কেঁদে ওঠা, পরক্ষণেই আবার ভয়ে আর্তনাদ করা হাসি দেখা যেতে থাকে তাদের মধ্যে।

এক গবেষক এর কারণ হিসেবে বলেন যে মনের উপর অত্যধিক চাপের কারণেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন ছাত্ররা। আসলে সেই সময়ে দেশটি সবে মাত্র স্বাধীন হয়েছিল। ফলে নতুন ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য করে পড়ুয়াদের প্রতি আশা বেড়ে গিয়েছিল অভিভাবক এবং শিক্ষকদের। তাই দেশের পড়ুয়াদের উপর খুব মানসিক চাপ বেড়ে গিয়েছিল সে সময়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.