মুম্বই: এ বছরই প্রয়াত হয়েছেন সংগীত পরিচালক ওয়াজিদ খান। কিন্তু এর মধ্যেই ওয়াজিদের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন সঙ্গীত পরিচালকের স্ত্রী কমলরুখ। ওয়াজিদ এর পরিবার নাকি তাকে হেনস্থা করছে। এমনই অভিযোগ সঙ্গীত পরিচালকের স্ত্রীর।

পাঁচ মাস হল মৃত্যু হয়েছে ওয়াজিদ খান এর। সঙ্গীত পরিচালকের পরিবার ও ভক্ত রা এখনো তার মৃত্যুর শোক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। আর তার মধ্যেই এই বিতর্ক। প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন কমল রুখ। তার দাবি তাকে রীতিমত জোর করা হত ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য। সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টের মাধ্যমে এমনই জানিয়েছেন তিনি।

কলেজে পড়ার সময় ওয়াজিদ খান এর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তার। এরপরই প্রেম ও বিয়ে। ওয়াজিদের স্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, “ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আবার। এবার সরকারি স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমার নাম কমলরুখ খান। আমি প্রভাত সঙ্গীত পরিচালক ওয়াজিদ খানের স্ত্রী। বিয়ের আগে আমি ও আমার স্বামী ১০ বছরের জন্য কোর্টশিপ এর আওতায় ছিলাম। আমি পারসি আর তিনি ছিলেন মুসলিম। আমাদের ‘কলেজ সুইট হার্ট’ বলা হত।”

তিনি জানিয়েছেন ভালোবাসা ছিল বলেই স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট আইন মেনে তাদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ইন্টার কাস্ট ম্যারেজ হওয়ায় তাকে হেনস্তার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমলরুখ। তিনি তাঁর লম্বা পোস্টে লিখেছেন, “আজকের দিনেও একজন মহিলা এই সমস্ত ভেদাভেদ এবং কুসংস্কারের শিকার হতে পারেন ধর্মের নামে। এই বিষয়টি খুবই লজ্জার এবং চোখ খুলে দেওয়ার মতো।”

নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “পার্সি হিসেবে বড় হয়ে ওঠা র সঙ্গে গণতন্ত্র জড়িয়ে রয়েছে। স্বাধীন চিন্তা এবং স্বাস্থ্যকর তর্ক বিতর্ক সবসময় মর্যাদা পেয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে শিক্ষাকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর এই একই স্বাধীনতা, শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক নীতিবোধ আমার স্বামীর পরিবারের কাছে বড় সমস্যা ছিল। একজন শিক্ষিত স্বাধীন মহিলার থেকে কোন মতামত শুনতে পারছেন না তারা।”

তিনি জানিয়েছেন ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য সেই পরিবার থেকে খুবই চাপ দেওয়া হতো তাকে। আর এর ফলেই তার এবং ওয়াজ ঈদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। কিন্তু তবুও আত্মমর্যাদার জন্য কখনো ঝোঁকেননি বলে জানিয়েছেন কমলরুখ খান। তিনি জানিয়েছেন নিজের সন্তানদের কাছে এই পুরুষতন্ত্রকে কখনোই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। এক সময় এসব নিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

সম্পর্ক খারাপ হলেও এখনও ওয়াজিদকে মিস করেন কমলরুখ। তিনি লিখেছেন, “ওয়াজিদ একজন গুণী মিউজিশিয়ান এবং সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন যিনি নিজের জীবনকে সংগীতের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। আমি এবং আমার সন্তানরা তাকে খুব মিস করি। ধর্মের বিষয়গুলিকে সরিয়ে রেখে পরিবারের প্রতি আমরা যদি আরেকটু মন দিতে পারতাম ভালো হত। ঠিক যেভাবে সংগীতের দিকে তিনি মন দিতেন। ওর এবং ওর পরিবারের ধর্ম নিয়ে গোঁড়ামির জন্য আমরা কখনই একটা পরিবার হয়ে উঠতে পারিনি। কিন্তু ওর মৃত্যুর পরেও পরিবার এখনো হেনস্থা করে চলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানদের অধিকারের জন্য লড়ছেন। ইসলাম ধর্মের রূপান্তরিত হইনি বলে আমার উপর এত ঘৃণা। ঘৃণার পরিমাণ এতই বেশি যে একজন ভালোবাসার মানুষের মৃত্যুর পরেও তা একটুও কমেনি।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।