সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: তিনি অপু৷ অভিনেতা হিসেবে তিনি কিংবদন্তি, তবে আবৃত্তি শিল্পী হিসেবেও তার নাম অত্যন্ত সম্ভ্রমের সঙ্গেই উচ্চারিত হয়৷ তিনি কবি এবং অনুবাদকও।

রবিবার এ শহর ছিল অপুর৷ ডান-বাম- বিজেপিকে তিনি মেলালেন৷ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা সবাই একসঙ্গে নতমস্তক। রবীন্দ্র সদনে তখন শেষ শয্যায় শায়িত ‘ফেলুদা’। তাঁর মরদেহের সামনে, প্রেক্ষাগৃহের বাইরে – দেখা গেল রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে অভিনেতা- অভিনেত্রীদের ভিড়।

অপু ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাঁকে শেষবার দেখতে অগণিত মানুষের সমাগমে ভরে উঠেছে রবীন্দ্র সদন চত্বর। ছিলেন রাজনীতিকরাও। এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মরদেহে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। প্রয়াত অভিনেতাকে শেষ-শ্রদ্ধা জানালেন বাম নেতা বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী ও সূর্যকান্ত মিশ্র৷ ডান-বাম সব নেতাদেরই যে আজ একটাই পরিচয়। তাঁরা সকলেই ‘ফেলুদা’ অনুরাগী। এসেছিলেন দেব-রুক্মিনী-রাজ চক্রবর্তী, জুন মালিয়াসহ অনেকেই৷

রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রবীন্দ্র সদন থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশ্যে সৌমিত্রবাবুর পার্থিব শরীর নিয়ে রওনা দেয় পরিবার,পরিজন ও অনুরাগীরা। সব রঙের বিভেদ ভুলে এদিন শেষযাত্রায় পা মেলালেন মমতা, বিমান বসুরা। তাই বলা যায় এ শহর অপুর।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রথম সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় অপুর সংসার ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা, এবং টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। অভিনয় ছাড়া তিনি নাটক ও কবিতা লিখেছেন, নাটক পরিচালনা করেছেন।

তার অভিনীত চরিত্রগুলোর ভিতরে সবথেকে জনপ্রিয় হল ফেলুদা। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

কিন্তু তাকে আর কোনও দিন সশরীরে অভিনয় করতে দেখা যাবে না। তিনি যে চির বিদায় নিলেন৷ ২০২০সালের ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২.১৫ টায়৷ আর সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গান স্যালুটে ক্যাওড়াতলায় বিদায় জানানো হয় ৮৫ বছরের সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে৷ অবসান হল একটি যুগের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।